images

আরটিভি

তিশা-খায়রুল বাসারের ‘ও পাষাণী’

মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল ২০২৫ , ০৫:৪০ পিএম

images

ছোট পর্দার দুইপ্রিয় মুখ খায়রুল বাসার, তানজিন তিশা প্রমুখ। একসঙ্গে এই দুই তারকা কাজ করেছেন অনেক নাটকে। পেয়েছেন দর্শকদের প্রশংসাও। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তারা ঈদে নতুন নাটক নিয়ে দর্শকদের সামনে আসছেন। অপূর্ণ রুবেলের রচনায় ‘ও পাষাণী’ শিরোনামের নাটকটি নির্মাণ করেছেন সেলিম রেজা। 

নাটকটির গল্পে দেখা যাবে, শুক্রবার মসজিদে যাওয়ার আগে টিভিতে ঘোষনাটা শুনে যায় রিপন। ঘোষণাটা শোনার জন্যই পায়জামা-পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে এসে টুক করে টিভিটা ছাড়ে। ঘোষিকা তখন টিভিতে বলে যাচ্ছে, এখন জানিয়ে দিচ্ছি আমাদের বিকেলের অধিবেশনের সময়সূচি। বেলা তিনটায় শুরু হবে আজকের শুক্রবারের দ্বিতীয় অধিবেশন। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, তারপর গীতা ও ক্রিপিটক পাঠ। বেলা তিনটা ১৫ মিনিটে রয়েছে বাংলা ছায়াছবি ঘাত প্রতিঘাত। শ্রেষ্ঠাংশে জসিম সুচরিতা আহমেদ শরীফ সহ অনেকেই। এতটুকু শুনে টিভিটা বন্ধ করে দেয় রিপন। ব্যাটারিচালিত টিভি। দুই মিনিট বন্ধ রাখলে পরে বাড়তি দুই মিনিট চালানো যাবে। তবে দুই মিনিট না এক মিনিট বন্ধ রাতে। রাতের অনুষ্ঠানসূচিটাও শুনতে হবে। আবার যখন ছাড়ে তখন অলরেডি ঘোষিকা সন্ধ্যা সাতটার ঘোষণা দিচ্ছে। 

রাত আটটার সংবাদের পরে রয়েছে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি। আর সাড়ে ১০টার ইংরেজি সংবাদের পর প্রচারিত হবে বাংলা সিনেমার গানের অনুষ্ঠান ছায়াছন্দ।

ঘোষণা শোনার পর মনে হয় আজ রিপনের ঈদ। এক দিনে এত অনুষ্ঠান। সবগুলো আসমার আর তার প্রিয়। এত অনুষ্ঠান মানে হলো, আজ বেশি সময় আসমাকে সামনে পাবে। আসমারও একটা প্রস্ততি আছে। তাই নামাজে যাওয়ার আগে প্রথম খবরটা জানাতে হবে ওকে। বলা যায়, এটা রিপনের শুক্রবারের প্রধান ও অন্যতম দায়িত্ব। তবে কোনো কারণ ছাড়া আসমাদের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ নাই এখন। এই দুপুর বেলা একটা উছিলা অবশ্য আছে। ওর ছোট ভাইকে ডেকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার উছিলায় যাওয়া যায়। রিপন তাই করে। কিন্তু যা ভেবেছিল তাই, ছোটভাই রাজু ততক্ষণে মসজিদে চলে গেছে। বের হয়ে আসে আসমা। মুখোমুখি হয় দুজন। টুপি মাথায় দিতে দিতে রিপন বলে, ঘাত প্রতিঘাত। জসিম। বাংলা সংবাদ পরে ইত্যাদি আর আর ইংরেজি সংবাদ শেষে ছায়াছন্দ। আসমা যা বোঝার বোঝে। একটা হাসি দিয়ে ভেতরে চলে যায়। যাওয়ার সময় বলে দেয়, মোনাজাতে যেন থাকি! বছরখানেক ধরে প্রেমে আটকে আছে রিপন আর আসমা। এক গ্রামে বাড়ি। দুজনই মোটামুটি অবস্থা সম্পন্ন। তবে পুরো গ্রামে টিভি আছে রিপনদের বাড়িতে। তাই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ শুক্রবারের সিনেমা, রাতের আলিফ লায়লা, ছায়াছন্দ এমনকি রাত আটটার সংবাদও শুনতে আসেন। কিন্তু সবদিন টিভি ছাড়ার সুযোগ থাকেনা। কারণ ব্যাটারি। পুরো গ্রামে বিদ্যুত নেই। ব্যাটারি দিয়ে চালাতে হয় টিভি। রিপররা ব্যাটারি বানিয়ে নিয়েছে। নতুন বানানোর পর মাসখানেক চার্জ যায়। কিন্তু চার্জের জন্য দুই তিনদিন দিয়ে রাখতে হয়। তবে মাঝেমধ্যে এই বাড়িতে সিডি আনা হয়। বিকেল থেকে সারারাত চলে সিনেমা। এমন অজপাড়া গায়ে ওই দিন ঈদের আনন্দ নেমে আসে। তবে রিপনের জন্য ঈদের মুহুর্ত তখনই যখন সব কাজ শেষ করে আসমা আসে টিভি দেখতে। অথবা যেদিন সিডি আনা হয় সেদিন সিডিতে হিন্দি সিনেমা দেখতে আসে। তবে সিডিতে সিনেমা দেখতে দেখতে রাত গভীর হয়। লোকজন কমে আসে। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের গল্প। 

আরটিভি/এএ