images

ফিচার

ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য

বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:০৮ এএম

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে ইতালি থেকে অত্যাধুনিক ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতালির প্রতিরক্ষা ও অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএ–র সঙ্গে একটি সম্মতিপত্রে সই করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, আধুনিক মাল্টি–রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট যুক্ত হলে বিমান বাহিনীর সম্মুখ সারির শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আকাশ প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা নজরদারি ও আক্রমণক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে টাইফুন।

ইউরোফাইটারের সরকারি ওয়েবসাইটে একে বলা হয় “বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক সুইং–রোল কমব্যাট ফাইটার”—অর্থাৎ একই সঙ্গে এয়ার–টু–এয়ার ও এয়ার–টু–গ্রাউন্ড মিশনে সমান দক্ষ।

বর্তমানে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, অস্ট্রিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতার এই ৯টি দেশের বিমান বাহিনী টাইফুন ব্যবহার করছে।

ইউরোফাইটার টাইফুনের মূল বৈশিষ্ট্য
১. টুইন-ইঞ্জিন, ক্যানার্ড-ডেল্টা উইং মাল্টিরোল ডিজাইন, দ্রুত গতি, তীক্ষ্ণ ম্যানুভারিং এবং ডগফাইট সক্ষমতা। আকাশযুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম কাঠামো।

২. এয়ার-টু-এয়ার ক্ষমতা
উন্নত AESA রাডার ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম। কাছাকাছি ডগফাইট থেকে লং রেঞ্জ এনগেজমেন্টে সমান দক্ষ।

৩. এয়ার-টু-গ্রাউন্ড আক্রমণ সামর্থ্য
গাইডেড বোমা, প্রিসিশন স্ট্রাইক অস্ত্র ব্যবহারযোগ্য। ব্যাটেলফিল্ড ডেটা রিয়েল টাইমে প্রক্রিয়াকরণ।

৪. ইন্টেলিজেন্স, নজরদারি ও রেকি (ISR)

শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ ও কৌশলগত বিশ্লেষণে আধুনিক ব্যবহারে সক্ষম।

৫. স্টেলথ–সহায়ক নকশা

বাহ্যিক পৃষ্ঠের মাত্র ১৫% ধাতব রাডারে ধরা পড়া কঠিন। সাবসনিক ও সুপারসনিক—দুই গতিতেই কার্যকর।

৬. হালকা কিন্তু শক্তিশালী এয়ারফ্রেম
কম্পোজিট উপকরণ ওজন ৩০% কম, ফলে রেঞ্জ ও পারফরম্যান্স বেশি।

৭. শক্তিশালী EJ200 ইঞ্জিন
বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জেট ইঞ্জিনগুলোর একটি। উচ্চ থ্রাস্ট–টু–ওয়েট রেশিও।

৮. জ্বালানি ধারণক্ষমতা
সর্বোচ্চ ৭,৬০০ কেজি দীর্ঘ রেঞ্জ মিশনে দক্ষ।

৯. বিপুল অস্ত্র বহনে সক্ষমতা
এয়ার-টু-এয়ার: মিটিওর, AMRAAM, ASRAAM, IRIS-T,এয়ার-টু-গ্রাউন্ড: Paveway, Storm Shadow, Brimstone ইত্যাদি। ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ থেকে লং রেঞ্জ সবক্ষেত্রে কার্যকর।

১০. উন্নত লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম
ফুল-কভার অ্যান্টি-জি স্যুটচেস্ট কাউন্টার-প্রেশার গিয়ার। লিকুইড কুলিং NBC (Nuclear, Biological, Chemical) প্রটেকশন।

৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান

টাইফুন মূলত ৪র্থ প্রজন্মের হলেও এর উন্নত রাডার, সেন্সর ফিউশন, ডিজিটাল অ্যাভিয়নিক্স ও নিশ্চিন্ত নেটওয়ার্ক–ওয়ারফেয়ার সক্ষমতার কারণে এটিকে ‘৪.৫ জেনারেশন’ ধরা হয়।

এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, দাসো রাফাল (ফ্রান্স), সাব গ্রিপেন ই/এফ (সুইডেন), এফ/এ–১৮ সুপার হর্নেট (যুক্তরাষ্ট্র), এফ–১৬ ব্লক ৭০/৭২ (যুক্তরাষ্ট্র)।

চলতি বছরই যুক্তরাজ্য থেকে ২০টি নতুন ইউরোফাইটার টাইফুন কিনতে চুক্তি করেছে তুরস্ক। এ জন্য দেশটিকে মোট ৫.৪ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে টাইফুন যোগ হলে, আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী হবে,রিয়েল-টাইম নজরদারি উন্নত হবে। সেই সাথে সমুদ্র ও স্থলভাগে সমন্বিত আক্রমণ সক্ষমতা তৈরি হবে।  এটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

আরটিভি/এসকে