শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:২৬ পিএম
রাস্তায় চলাচলের সময় ট্রাক, বাস কিংবা মালবাহী গাড়ির পেছনে ঝুলতে থাকা একটি পুরোনো জুতা-এই দৃশ্য দক্ষিণ এশিয়ায় খুবই পরিচিত। অনেকেই একে কুসংস্কার বা ‘নজর টোটকা’ বলে মনে করেন। তবে বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে একটি চমকপ্রদ দেশীয় কৌশল, যা গাড়ির অতিরিক্ত ওজন বা ওভারলোড পরিমাপে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু বছর ধরে।
ওভারলোড মাপার দেশি প্রযুক্তি
অভিজ্ঞ চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির পেছনে জুতা ঝুলানো আসলে একটি সহজ ও কার্যকর যান্ত্রিক ইঙ্গিতক ব্যবস্থা। মালবাহী ট্রাক বা বাসে যত বেশি মালামাল বা যাত্রী ওঠানো হয়, গাড়ির পেছনের অংশ তত নিচের দিকে দেবে যায়।
জুতা মাটি ছুঁলে: গাড়ি ওভারলোড হয়ে গেছে-আর মাল বা যাত্রী তোলা যাবে না।
জুতা মাটি না ছুঁলে: গাড়িতে এখনো নির্ধারিত সীমার মধ্যে ওজন বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
চালকদের মতে, এই পদ্ধতি অতিরিক্ত ওজনের কারণে টায়ার ফেটে যাওয়া, এক্সেল ভেঙে যাওয়া বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
সহজ, সস্তা কিন্তু কার্যকর
আধুনিক লোড সেন্সর না থাকায় পুরোনো বা গ্রামাঞ্চলের অনেক ট্রাকে এখনো এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। কোনো বিদ্যুৎ, সফটওয়্যার বা যন্ত্রাংশ ছাড়াই এটি একটি ভিজ্যুয়াল সেন্সর হিসেবে কাজ করে।
কুসংস্কার ও লোকবিশ্বাসও রয়েছে। তবে শুধু কারিগরি কারণই নয়, জুতা ঝুলানোর পেছনে রয়েছে নানা লোকজ বিশ্বাসও।
নজর লাগা থেকে রক্ষা: অনেক চালক মনে করেন, পুরোনো ও নোংরা জুতা ঝুলিয়ে রাখলে মানুষের কুদৃষ্টি গাড়ির ওপর পড়ে না।
অশুভ শক্তি প্রতিরোধ: দূরপাল্লার চালকদের বিশ্বাস, এটি অশুভ শক্তিকে দূরে রাখে।
ঐতিহ্য ও প্রতীক: কিছু ক্ষেত্রে এটি নিছক অভ্যাস বা প্রথায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও সামাজিক বাস্তবতায় এগুলো এখনও প্রচলিত।
জুতা নয়, কখনো শিকল
অনেক ট্রাকের পেছনে জুতার বদলে লোহার শিকল ঝুলতে দেখা যায়। এটি একদিকে ওভারলোড বোঝাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ঘর্ষণজনিত স্থির বিদ্যুৎ (স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি) মাটিতে পাঠাতে সহায়ক বলে ধারণা করা হয়।
প্রাইভেট কারে কেন জুতা?
শহরের কিছু প্রাইভেট কারেও জুতা ঝুলতে দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ক্ষেত্রে এটি প্রায় পুরোপুরি কুসংস্কার বা প্রতীকী বিশ্বাসের অংশ-কারিগরি প্রয়োজন নয়।
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রাসঙ্গিকতা
বর্তমানে আধুনিক ট্রাক ও বাসে ডিজিটাল লোড সেন্সর ব্যবহৃত হচ্ছে। তবুও অনেক পুরোনো যানবাহনে বা কম খরচে ঝুঁকি কমানোর জন্য আজও এই দেশি কৌশল ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরটিভি/কেআই