images

ফিচার

কিছু মাছ স্রোতের বিপরীতে কেন সাঁতার কাটে

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:৪১ এএম

নদী বা সমুদ্রের স্রোত অনুযায়ী সাঁতার কাটতে সুবিধা হলেও কিছু মাছ সচেতনভাবে বিপরীত পথে সাঁতার কাটে। এই আচরণের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ আমাদের দেশের ইলিশ মাছ। ডিম পাড়ার সময় ইলিশ সমুদ্র থেকে দলবেঁধে নদীর মিঠাপানিতে আসে, যেখানে তাদের পোনা নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে।

বিশ্বজুড়ে যেসব মাছ জন্মের একটি বিশেষ সময়ে সমুদ্র ছেড়ে নদীর মিঠাপানিতে যায়, তাদের “অ্যানাড্রোমাস” মাছ বলা হয়। এর মধ্যে স্যামন, স্টার্জন, স্ট্রাইপড ব্যাস, স্পটেড সি ট্রাউট এবং বিশেষ প্রজাতির অ্যালোসা মাছও রয়েছে।

MM9861

বিজ্ঞানীরা এই মাছগুলোর অবাক করা স্মৃতিশক্তি দেখেছেন। ছোট অবস্থায় জন্মস্থানের পানির ঘ্রাণ মস্তিষ্কে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়। বড় হলে ডিম পাড়ার সময় এরা সেই ঘ্রাণ অনুসরণ করে জন্মস্থানে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অলফ্যাক্টরি ইমপ্রিন্টিং’ বা ঘ্রাণজ স্মৃতি।

এই বিপরীত স্রোতের যাত্রা সহজ নয়। মাছগুলোকে শক্তিশালী স্রোত, জলপ্রপাত, এবং শিকারিদের থেকে বাঁচতে হয়। কিছু প্রজাতি দীর্ঘ যাত্রায় খাবারও খায় না, শরীরের জমানো চর্বি ব্যবহার করে শক্তি যোগায়। সমুদ্র থেকে নদীতে ঢোকার সময় এদের রং এবং শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গও মিঠাপানির জন্য মানিয়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিপরীত স্রোতের যাত্রা শুধুমাত্র জীবনের চ্যালেঞ্জ নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া। এভাবে স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার মাধ্যমে অ্যানাড্রোমাস মাছগুলো প্রজাতির টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়।

আরটিভি/এসকে