সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:২৪ এএম
আকাশে পাখির ওড়াউড়ি খুবই স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু পানির নিচে সাবমেরিনে চড়ে ঘুরে বেড়ানো একটি টিয়াপাখি এমন ঘটনা বিরলই নয়, প্রায় অভূতপূর্ব। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ‘বেবে’ নামের একটি সাদা টিয়াপাখিকে দেখা যায় স্বচ্ছ ছোট সাবমেরিনের ভেতরে বসে সমুদ্রতল ঘুরে দেখতে।
ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানা গেছে, বেবে তার মালিক স্টিভেন লয়ারের সঙ্গে বিভিন্ন রোমাঞ্চকর অভিযানে অংশ নেয়। এর আগে সে স্কাইডাইভিং, দীর্ঘ সাইকেল ভ্রমণ এবং বরফে স্কিইংয়ের মতো কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছে। সর্বশেষ এই অভিযানের জন্য স্টিভেন নিজেই প্লাস্টিকের পাত্র ও পেইন্টবল এয়ার ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে একটি ছোট সাবমেরিন তৈরি করেন, যার নাম দেন ‘বেবোস্ফিয়ার’।
ভিডিওটি ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষ দেখেছেন এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও প্রচারিত হয়েছে। তবে অনেকেই বিষয়টিকে প্রাণীর প্রতি অমানবিক আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, একটি পাখিকে পানির নিচে পাঠানো তার স্বাভাবিক জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এ বিষয়ে স্টিভেন লয়ার দাবি করেন, বেবে এই অভিযানে কোনো ভয় বা অস্বস্তি অনুভব করেনি। বরং সে নিজেই পানির নিচে যাওয়ার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিল। তিনি জানান, বেবে আগে থেকেই পানির মধ্যে ডুব দেওয়ার অভ্যাস করেছিল এবং পুরো সময় স্বাভাবিক আচরণ করেছে।
২০২০ সালে ফ্লোরিডার একটি দোকান থেকে বেবেকে কেনেন স্টিভেন। শুরু থেকেই পাখিটি তার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। এমনকি দৈনন্দিন কাজকর্মেও বেবে তার সঙ্গ ছাড়ে না। স্টিভেনের সাইক্লিং প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে আকাশে স্কাইডাইভিং সব জায়গাতেই বেবের উপস্থিতি চোখে পড়ে।
প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ সাইকেল যাত্রাতেও বেবে তার মালিকের সঙ্গী ছিল। দ্রুতগতির সময়েও সে শক্তভাবে স্টিভেনের পোশাক আঁকড়ে ধরে থাকে। এমনকি উড়ে গেলেও পরে আবার ফিরে আসে তার মালিকের কাছে।
গত ২৪ মার্চ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ ফুট নিচে ১৫ মিনিট অবস্থান করে বেবে। এ সময় স্টিভেন তার পাশে সাঁতার কাটছিলেন। পরে ৪ এপ্রিল ভিডিওটি প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিতর্কের জন্ম দেয়।
সমালোচনার মাঝেও স্টিভেন লয়ার ভবিষ্যতে বেবেকে নিয়ে আরও নতুন অভিযানের পরিকল্পনা করছেন। তার পরবর্তী লক্ষ্য পাওয়ার প্যারাগ্লাইডিং। তবে তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী অভিযানে যাওয়ার আগে বেবের নিরাপত্তা ও আগ্রহ নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, বেবের এই অস্বাভাবিক অভিযাত্রা একদিকে যেমন মানুষকে বিস্মিত করছে, অন্যদিকে প্রাণীর কল্যাণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট ও এনবিসি মিয়ামি
আরটিভি/এসকে