images

ফিচার

হাইওয়ের সাইনবোর্ড সবুজ কেন, পেছনের বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক কারণ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:০৬ পিএম

হাইওয়ে দিয়ে চলার সময় রাস্তার পাশে বড় সবুজ রঙের সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। সাদা অক্ষরে লেখা এসব নির্দেশক বোর্ডকে বলা হয় ‘গাইড সাইন’। কিন্তু প্রশ্ন হলোহাইওয়ের সাইনবোর্ড সব সময় সবুজই হয় কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক, ব্যবহারিক ও ঐতিহাসিক কারণ।

গবেষণা বলছে, সবুজ রং মানুষের চোখের জন্য তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক এবং দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর সময় সহজে শনাক্ত করা যায়। সবুজ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নীল ও লালের মাঝামাঝি হওয়ায় এটি দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং চোখে চাপ কম সৃষ্টি করে।

১৯৫০-এর দশকে চালকদের ওপর পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা লেখা সবচেয়ে সহজে পড়তে পারেন।

হাইওয়ের সাইনবোর্ডে সাধারণত রিফ্লেক্টিভ (প্রতিফলক) আবরণ ব্যবহার করা হয়। ফলে রাতে গাড়ির হেডলাইট পড়লে লেখা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সবুজ রং এই প্রতিফলনের ক্ষেত্রেও দৃষ্টিবিভ্রম কমায়।

image

গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ রং অন্যান্য অনেক রঙের তুলনায় বেশি টেকসই। দীর্ঘদিন রোদ, বৃষ্টি ও ধুলার মধ্যেও এটি কম বিবর্ণ হয়। কিছু আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, লাল রঙের সাইনবোর্ড যেখানে প্রায় ১২ বছরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেখানে সবুজ সাইনবোর্ড কয়েক দশক পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।

সবুজকে ‘শান্ত রং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকায় চালকের মনোযোগে হঠাৎ ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না। অন্যদিকে লাল, হলুদ বা কমলা রং সতর্ক সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণ করে।

১৯০০ সালের শুরুর দিকে বিভিন্ন দেশে ট্রাফিক সাইনবোর্ডের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। পরে ১৯২৭ সালে মানসম্মত ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ শুরু হয় এবং ১৯৬১ সালে মহাসড়কের নির্দেশক বোর্ডের জন্য সবুজ রংকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালের ভিয়েনা কনভেনশন আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাফিক সাইন ব্যবস্থাকে একীভূত করে, যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশেই একই ধরনের সবুজ গাইড সাইন ব্যবহার শুরু হয়।

আরও পড়ুন
SUBMERIN

সাবমেরিন চালিয়ে সমুদ্রের নিচে টিয়া পাখি, ভাইরাল ভিডিও

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রঙের ব্যবহার এখন বিশ্বব্যাপী মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে, যা চালকদের জন্য নিরাপদ ও সহজ নেভিগেশন নিশ্চিত করে।

আরটিভি/এসকে