images

ফিচার

চাঁদের আলোয় দেখা মিলবে বিরল রংধনুর

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০৬:৩৩ পিএম

দিনের আলোয় আকাশের নীল ক্যানভাসে সাতরঙা রংধনু কমবেশি সবাই দেখেছেন। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারেও রংধনু দেখা যায়? প্রকৃতির এই রহস্যময় ও বিরল দৃশ্যের নাম ‘মুনবো’ বা চন্দ্রধনু। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে দেখা মিলেছে এই মায়াবী সৌন্দর্যের।

পৃথিবীর হাতেগোনা যে কয়েকটি স্থানে এই বিরল দৃশ্য দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। সম্প্রতি সেখানে পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রধনু দেখার এক অনন্য অভিজ্ঞতা ক্যামেরাবন্দি করেছেন ট্রাভেল ভ্লগার সারাহ স্টিজার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে নিজের সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। 

সারাহ স্টিজার জানান, সেই রাতে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের আশপাশে কোনো কৃত্রিম আলো বা ফ্লাডলাইট ছিল না। ছিল কেবল উদীয়মান পূর্ণিমার চাঁদের ম্লান আভা আর জাম্বিয়ার রাতের ঘন নীল-কালো অন্ধকার। সেই নিকষ কালো আঁধারে ১০০ মিটারেরও বেশি গভীর গিরিখাতে প্রচণ্ড শব্দে আছড়ে পড়ছিল পানি। আছড়ে পড়া পানির সেই প্রবল ঘূর্ণি বাতাসে জলকণার বিশাল ফোয়ারা তৈরি করছিল।

সেই দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে সারাহ বলেন, প্রথমে জলকণার মাঝে একটি ম্লান দাগ দেখা যাচ্ছিল, যা সরাসরি না তাকালে বোঝা কঠিন। এরপর ধীরে ধীরে অন্ধকারের বুক চিরে একটি কোমল ও উজ্জ্বল বক্ররেখা ফুটে উঠল—গিরিখাতের ওপর ঝুলে থাকা এক চমৎকার আলোকচ্ছটা। এটিই ছিল ‘মুনবো’ বা চন্দ্রধনু। এটি সূর্যের আলোয় নয়, বরং চাঁদের আলোয় তৈরি এক মায়াবী সেতু।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত স্থানীয়ভাবে ‘মোসি-ওয়া-তুনিয়া’ বা ‘বজ্রধ্বনি সৃষ্টিকারী ধোঁয়া’ নামে পরিচিত। প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ পর্যটক এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসলেও বেশিরভাগই আসেন দিনের আলোয়। তবে পূর্ণিমার সময় রাতের অন্ধকারে যারা সেখানে উপস্থিত থাকেন, তারাই কেবল প্রকৃতির এই নিভৃত ও বিরল মহিমা দেখার সুযোগ পান। জলকণা ও চাঁদের আলোর সঠিক প্রতিসরণ ঘটলেই কেবল এই চন্দ্রধনুর দেখা মেলে, যা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক জীবনের সেরা প্রাপ্তি হয়ে থাকে।

আরটিভি/এআর