সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ , ০১:৫৭ পিএম
থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম থেকে বিজ্ঞানীরা নতুন এক প্রজাতির বিশালাকার লম্বা-গলার ডাইনোসরের সন্ধান পেয়েছেন। ‘নাগাটাইটান’ নামে পরিচিত এই ডাইনোসরকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসর বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, প্রায় ২৭ টন ওজনের এই ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার বা ৮৮ ফুট। অর্থাৎ এটি ছিল প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির সমান ভারী। লম্বা গলা ও উদ্ভিদভোজী বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ‘সোরোপড’ পরিবারের সদস্য। এই পরিবারভুক্ত ডাইনোসরগুলোর মধ্যে ডিপ্লোডোকাস অন্যতম পরিচিত নাম।
এক দশক আগে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চাইয়াফুম প্রদেশে একটি পুকুরের পাশে জীবাশ্মগুলো খুঁজে পান গবেষকেরা। পরে যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের বিজ্ঞানীদের যৌথ গবেষণায় নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করা হয়। গবেষকদের ধারণা, এই আবিষ্কার প্রাচীন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কীভাবে বিশালাকার ডাইনোসরের বিকাশ ঘটেছিল, সে বিষয়ে নতুন তথ্য দেবে।
ডাইনোসরটির পূর্ণ নাম রাখা হয়েছে “নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস”। এখানে “নাগা” শব্দটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোককাহিনির সর্পকে বোঝায়, “টাইটান” এসেছে গ্রিক পুরাণের দেবতাদের নাম থেকে এবং “চাইয়াফুমেনসিস” অংশটি এসেছে চাইয়াফুম প্রদেশের নাম থেকে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ডাইনোসর প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। অর্থাৎ এটি টাইরানোসরাস রেক্সেরও প্রায় ৪ কোটি বছর আগের প্রাণী। আকারেও এটি টি-রেক্সের প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
গবেষণার প্রধান লেখক থিতিউউট সেথাপানিচসাকুল, যিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের পিএইচডি শিক্ষার্থী। তিনি জানান, গবেষকেরা নাগাটাইটানকে “থাইল্যান্ডের শেষ টাইটান” নামে উল্লেখ করেছেন। কারণ জীবাশ্মগুলো দেশের সবচেয়ে নবীন ডাইনোসরসমৃদ্ধ শিলা স্তরে পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, ডাইনোসরের যুগের শেষদিকে অঞ্চলটি অগভীর সমুদ্রে পরিণত হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের জীবাশ্ম পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
শৈশব থেকেই ডাইনোসরের প্রতি আগ্রহী সেথাপানিচসাকুল বলেন, নিজের হাতে একটি ডাইনোসরের নামকরণ করতে পারা তাঁর ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণের মতো।
বর্তমানে থাইল্যান্ডে মোট ১৪টি ডাইনোসর প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, ডাইনোসরের জীবাশ্ম বৈচিত্র্যের দিক থেকে এশিয়ায় থাইল্যান্ড সম্ভবত তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নাগাটাইটান এমন এক সময়ে পৃথিবীতে বাস করত, যখন বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছিল। গবেষকদের ধারণা, উষ্ণ জলবায়ু ডাইনোসরগুলোর খাদ্য উদ্ভিদের ওপর প্রভাব ফেলেছিল, যা তাদের বিশাল দেহ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
আরটিভি/এসকে