শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০৯:৩০ পিএম
ধানখেত, খাল বা কাদামাটির পাশে লম্বা, পিচ্ছিল কিছু নড়তে দেখলে অনেকেই প্রথমে সাপ ভেবে চমকে ওঠেন। কিন্তু কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায় এটি সাপ নয়, বরং কুঁচিয়া, যা আসলে একটি মাছ।
বাংলাদেশের গ্রামীণ ও জলাভূমি অঞ্চলে পাওয়া এই প্রাণীকে অনেকেই অস্বস্তিকর বা অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। কেউ কেউ ভয়েও ধরতে চান না। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এই কুঁচিয়ারই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে।
কুঁচিয়া মূলত Asian swamp eel হিসেবে পরিচিত। এর শরীর লম্বা, আঁশবিহীন এবং পিচ্ছিল হওয়ায় সাপের সঙ্গে অনেকেই ভুল করেন। রং সাধারণত বাদামি বা কালচে। পাখনা খুব স্পষ্ট নয়, যা এটিকে আরও অস্বাভাবিক চেহারা দেয়।
এরা সাধারণত কাদা, বিল, খাল, জলাভূমি ও ধানখেতে বাস করে। বর্ষাকালে পানির পরিমাণ বাড়লে কুঁচিয়া বেশি দেখা যায়। কুঁচিয়ার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অক্সিজেন কম থাকলেও এটি বেঁচে থাকতে পারে। পানি শুকিয়ে গেলে কাদার নিচে গর্ত করে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে সক্ষম হয়।
বর্ষাকালে গ্রামাঞ্চলে অনেকে কাদা খুঁড়ে বা বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুঁচিয়া ধরে থাকেন। এটি অনেক পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস। বিশেষ করে ভোর ও রাতের সময় টর্চ নিয়ে কুঁচিয়া ধরার প্রচলনও রয়েছে।
বাংলাদেশে যেখানে কুঁচিয়াকে অনেক সময় অবহেলার চোখে দেখা হয়, সেখানে চীন, কোরিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে এটি একটি দামী ও জনপ্রিয় খাবার। এসব দেশে কুঁচিয়া দিয়ে ঝাল রান্না, ভাজা, স্যুপ ও গ্রিলড খাবার তৈরি করা হয়।
উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শক্তিবর্ধক খাবার হিসেবেও বিবেচিত। ফলে বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কুঁচিয়া রপ্তানি হয়।
কুঁচিয়া শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ছোট জলজ প্রাণী খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তবে জলাভূমি ভরাট, দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ এবং কৃষিজমিতে রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাচ্ছে। ফলে অনেক এলাকায় কুঁচিয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, জলাভূমি রক্ষা না করা গেলে কুঁচিয়ার মতো অনেক প্রজাতি ভবিষ্যতে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়তে পারে। চেহারার কারণে অনেকেই কুঁচিয়াকে অপ্রয়োজনীয় বা ভয়ের প্রাণী মনে করলেও, বাস্তবে এটি পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। দেশে অবমূল্যায়িত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর কদর দিন দিন বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: অ্যানিমেলিয়া
আরটিভি/এসকে