সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ১২:৩২ পিএম
পোকামাকড় বা কীটপতঙ্গ অনেক সময় বিরক্তির কারণ মনে হলেও প্রকৃতিতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা—সব ক্ষেত্রেই তারা নীরব কিন্তু অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী থেকে সব কীটপতঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে গেলে মানবসভ্যতাই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সিনিয়র কিউরেটর ড. এরিকা ম্যাকএ্যালিস্টার বলছেন, পৃথিবীর সব কীটপতঙ্গকে আমরা যদি মেরে ফেলি, তাহলে আমরাও টিকে থাকতে পারব না।
প্রকৃতির ‘পরিষ্কারক’ কীটপতঙ্গ
মৃত প্রাণী ও উদ্ভিদ পচিয়ে মাটিকে উর্বর করার কাজ করে কীটপতঙ্গ। তারা না থাকলে পরিবেশে বর্জ্য ও মৃতদেহ জমে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া কীটপতঙ্গ না থাকলে পাখি, বাদুড়, ব্যাঙ এবং বহু ছোট প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়বে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফ্রান্সিসকো সানচেজ-বেয়ো বলছেন, মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রায় ৬০ শতাংশই খাদ্যের জন্য কীটপতঙ্গের ওপর নির্ভরশীল।
খাদ্য উৎপাদনের নীরব নায়ক
ফসল উৎপাদনে কীটপতঙ্গের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পরাগায়ন। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই সেবার মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধান ও গমসহ প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যশস্যের উৎপাদন সরাসরি কীটপতঙ্গের পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল।
ড. ম্যাকএ্যালিস্টার বলছেন, এমনকি চকলেট তৈরির কোকো গাছের পরাগায়নও ১৭ ধরনের কীটপতঙ্গের মাধ্যমে হয়।
দ্রুত কমছে কীটপতঙ্গের সংখ্যা
গবেষণায় দেখা গেছে, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২.৫ শতাংশ করে কীটপতঙ্গ কমছে। কিছু অঞ্চলে গত ৩০ বছরে উড়ন্ত কীটপতঙ্গের সংখ্যা ৭৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।
পুয়ের্তো রিকোতে চার দশকে কীটপতঙ্গ কমেছে প্রায় ৯৮ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এক শতাব্দীর মধ্যে ৪১ শতাংশ কীটপতঙ্গ প্রজাতি বিলুপ্ত হতে পারে।
কী কারণে এই বিপর্যয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, কীটপতঙ্গ বিলুপ্তির প্রধান কারণগুলো হলো—
সমাধানের পথ কী
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সমাধান হিসেবে তারা প্রস্তাব করেছেন—
কীটপতঙ্গ ছোট হলেও পৃথিবীর পরিবেশ ও মানবজীবনের ভারসাম্য রক্ষায় তারা বিশাল ভূমিকা রাখে। তাই তাদের অবহেলা নয়, বরং রক্ষা করাই এখন সময়ের দাবি। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—কীটপতঙ্গ হারালে হারাবে পুরো পৃথিবীর জীবনচক্রই।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ