শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ , ০৬:২১ পিএম
দুই দশক আগে চুরি হয়ে বিদেশে পাচার হওয়া দুর্লভ ডাইনোসরের জীবাশ্মের একটি বড় সংগ্রহ অবশেষে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে মঙ্গোলিয়া। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় উদ্ধার হওয়া এসব জীবাশ্ম এখন রাজধানী উলানবাটরে পৌঁছেছে।
মঙ্গোলিয়ার জাতীয় প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া সংগ্রহে মোট ২৯টি জীবাশ্মের একটি বড় সেট রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হলো টাইরানোসরাস রেক্সের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় টারবোসরাস বাটারেরে একটি বিরল জীবাশ্ম, যার অর্ধেকের বেশি অংশ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে বেশি মুনাফার আশায় চোরাকারবারিরা জীবাশ্মগুলো মঙ্গোলিয়া থেকে পাচার করে। পরে ২০১৩ সালে ফ্রান্সের শুল্ক কর্মকর্তারা কিছু নমুনা জব্দ করেন। এরপর ফ্রান্স ও মঙ্গোলিয়া সরকার আন্তর্জাতিক অবৈধ সম্পদ পাচারবিরোধী আইনের আওতায় যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জীবাশ্মগুলো মঙ্গোলিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, উদ্ধার হওয়া সংগ্রহে থেরোপড, অর্নিথোমিমোসর ও হ্যাড্রোসর প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্ম রয়েছে। এসব প্রাণী প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত কোটি বছর আগে, অর্থাৎ লেট ক্রিটেশিয়াস যুগে বর্তমান মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমি অঞ্চলে বিচরণ করত।
গবেষকদের ভাষ্য, বর্তমানে শুষ্ক ও শীতল গোবি মরুভূমি একসময় ছিল সবুজ ও আর্দ্র প্লাবনভূমি। সেই পরিবেশে শীর্ষ শিকারি হিসেবে আধিপত্য বিস্তার করত টারবোসরাস বাটার। পূর্ণবয়স্ক একটি টারবোসরাস প্রায় ৩৩ ফুট লম্বা, ১০ ফুট উঁচু এবং ৫ টনের বেশি ওজনের হতে পারত।
মঙ্গোলিয়ার জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনসাধারণের প্রদর্শনের আগে জীবাশ্মগুলোর বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার ও সংরক্ষণের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
জাদুঘরের পরিচালক মানচুক নুরামখান বলেন, এই ডাইনোসরের জীবাশ্মগুলো আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ এবং ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন। এগুলো ফিরে আসায় নতুন প্রজন্ম নিজেদের প্রাগৈতিহাসিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
সূত্র: পপুলার সায়েন্স
আরটিভি/এসকে