বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ০৬:০৬ পিএম
বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্রের তালিকায় রয়েছে ফ্রিজ। খাবার দীর্ঘসময় সতেজ রাখতে এর বিকল্প নেই। তবে শুধু ব্যবহার করলেই হবে না, নিয়মিত যত্ন না নিলে ফ্রিজের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং বিদ্যুৎ খরচও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে।
অনেকেই ফ্রিজের ভেতর পরিষ্কার রাখলেও পেছনের অংশে থাকা কনডেনসার কয়েল বা ধাতব জালির দিকে নজর দেন না। অথচ ফ্রিজের সঠিক কুলিং বজায় রাখতে এই অংশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন গুরুত্বপূর্ণ কনডেনসার কয়েল?
ফ্রিজের পেছনের জালিতে সময়ের সঙ্গে ধুলা, ময়লা ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র কণা জমতে থাকে। যখন এই স্তর বেশি পুরু হয়ে যায়, তখন তাপ বের হতে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে ফ্রিজকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখতে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর।
কতদিন পরপর পরিষ্কার করবেন?
গৃহস্থালি ব্যবহারের সাধারণ সিঙ্গল ডোর ফ্রিজের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর একবার কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে কুলিং স্বাভাবিক থাকে এবং যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

যাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে
যেসব বাড়িতে পোষা প্রাণী রয়েছে অথবা যেখানে ধুলাবালির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, সেখানে কয়েলে দ্রুত ময়লা জমে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি ২ থেকে ৩ মাস অন্তর পরিষ্কার করা ভালো।
পরিষ্কারের আগে যা করবেন
কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই ফ্রিজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। এরপর ফ্রিজটিকে দেয়াল থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নিন, যাতে পিছনের অংশে সহজে পৌঁছানো যায়।
কীভাবে পরিষ্কার করবেন?
জালিতে জমে থাকা ধুলো সরাতে নরম ব্রাশ, শুকনো কাপড় অথবা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে কখনোই পানি বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পরিষ্কার না করলে কী সমস্যা হতে পারে?
কনডেনসার কয়েল দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকলে- ফ্রিজের কুলিং কমে যেতে পারে, কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়, অন্যান্য যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে, ফ্রিজের আয়ু কমে যেতে পারে।
ফ্রিজের পেছনের জালি বা কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার রাখা ছোট একটি কাজ হলেও এর সুফল অনেক। নিয়মিত এই অংশের যত্ন নিলে কুলিং ভালো থাকবে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ফ্রিজও দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে। তাই ফ্রিজ পরিষ্কারের তালিকায় শুধু ভেতরের অংশ নয়, পিছনের জালিকেও সমান গুরুত্ব দিন।
আরটিভি/এসকে