বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৫৯ পিএম
শৈশবেই ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর’ তকমা পাওয়া অনেক শিশুর জীবন বাইরে থেকে স্বপ্নময় মনে হলেও বাস্তবে তাদের সবার ভাগ্যে সুখকর পরিণতি জোটেনি। কেউ আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও বিনোদন জগতে সফল ক্যারিয়ার গড়েছেন, আবার কেউ খ্যাতির চাপ, শোষণ ও মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন।
সম্প্রতি দীর্ঘদিন ধরে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত ফরাসি মডেল থিলান ব্লনডু প্রেমিক ফরাসি ডিজে বেন আতালকে বিয়ে করেছেন। মাত্র চার বছর বয়সে র্যাম্পে হাঁটার মাধ্যমে মডেলিংয়ে যাত্রা শুরু করা থিলান ছয় বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। তবে অল্প বয়সে অতিরিক্ত খ্যাতি ও জনদৃষ্টির কারণে তিনি মানসিক চাপের কথাও স্বীকার করেছিলেন।
১০ বছর বয়সে একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের বিতর্কিত ফটোশুটে অংশ নেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন থিলান। সমালোচকরা এটিকে শিশুর যৌনকরণ হিসেবে আখ্যা দিলেও তিনি পরবর্তীতে সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনের পরিচিত মুখ।
২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিস্টিনা পিমেনোভা ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে’ হিসেবে আলোচনায় আসেন। মাত্র নয় বছর বয়সেই তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হয়ে মডেলিং করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচনার মুখেও তিনি ক্যারিয়ার চালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি অভিনয় ও মডেলিং দুই ক্ষেত্রেই কাজ করছেন।
অন্যদিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ছেলে’ হিসেবে পরিচিত সুইডিশ অভিনেতা বিয়র্ন আন্দ্রেসেনের জীবন ছিল এক করুণ অধ্যায়। ১৯৭১ সালে ‘ডেথ ইন ভেনিস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেলেও শৈশব থেকেই তিনি নানা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ও শোষণের শিকার হন। পরবর্তী সময়ে পারিবারিক বিপর্যয়, মানসিক অবসাদ ও দীর্ঘ একাকিত্বের মধ্যে জীবন কাটান। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
২০১৭ সালে রাশিয়ার আরও দুই শিশু মডেল আনা পাভাগা ও আনাস্তাসিয়া কানিয়াজেভাও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।
আনা পাভাগা ছোটবেলা থেকেই মডেলিং করলেও তার পরিবার সবসময় পড়াশোনা, ব্যালে ও জিমন্যাস্টিকসকে সমান গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমানে তিনি একজন সফল টিন মডেল ও ব্যালে নৃত্যশিল্পী।
অন্যদিকে আনাস্তাসিয়া কানিয়াজেভা খুব অল্প বয়সে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে অতিরিক্ত মেকআপ ও শিশু বয়সেই পেশাদার মডেলিংয়ের কারণে তার পরিবার সমালোচনার মুখে পড়ে। বর্তমানে তিনি মডেলিং থেকে সরে এসে সংগীত ও টেলিভিশনে মনোযোগ দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে অতিরিক্ত খ্যাতি শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যাপ্ত পারিবারিক সহায়তা ও স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করা গেলে অনেকেই সুস্থভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তবে খ্যাতির চাপ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে অনেক শিশুই মানসিক সংকটের মুখোমুখি হয়।
এই ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দেয়, ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর’ তকমার চেয়ে একজন শিশুর নিরাপদ, স্বাভাবিক ও সুস্থ শৈশবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/এসকে