শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:২৫ পিএম
পৃথিবীর মহাসাগরে একসময় রাজত্ব করত ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি মেগালোডন। প্রায় ২ কোটি বছর আগে সমুদ্রের শীর্ষ শিকারি হিসেবে পরিচিত এই বিশালাকার হাঙর সম্পর্কে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। গবেষকদের দাবি, বিলুপ্ত এই হাঙর ‘ওটোডাস মেগালোডন’ সর্বোচ্চ প্রায় ৮০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারত, যা প্রায় দুটি বাসের সমান।

সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণাটি বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল প্যালিওন্টোলজিয়া ইলেকট্রনিকায় স্থান পেয়েছে। গবেষণায় মেগালোডনের জীবাশ্মের কশেরুকা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
![]()
বর্তমানে সমুদ্রে থাকা গ্রেট হোয়াইট হাঙর সাধারণত ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সেই তুলনায় মেগালোডনের আকার ছিল প্রায় তিন থেকে চার গুণ বড়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ বছর আগে এদের আবির্ভাব ঘটে এবং প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায় এই দানবাকার সামুদ্রিক শিকারি।

হাঙরের শরীর মূলত তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) দিয়ে গঠিত হওয়ায় এদের জীবাশ্ম খুব কমই সংরক্ষিত থাকে। ফলে মেগালোডন নিয়ে গবেষণার প্রধান উপাদান হিসেবে এতদিন পাওয়া গেছে দাঁত ও কশেরুকার কিছু অংশ।
![]()
এই গবেষণার ভিত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম, যা প্রথম ১৯৭৮ সালে ডেনমার্কে আবিষ্কৃত হয়। কাদামাটির স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল মেগালোডনের প্রায় ২০টি কশেরুকা। এর মধ্যে একটি কশেরুকার ব্যাস ছিল প্রায় ২৩ সেন্টিমিটার, যা এ পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় মেগালোডন কশেরুকাগুলোর একটি।

জীবাশ্মটি পরে ডেনমার্কের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হলেও ১৯৮৯ সালে জাদুঘরের স্থানান্তরের সময় সেটি হারিয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর, ২০১৭ সালে জাদুঘরের কিউরেটর একটি বাক্সের ভেতর থেকে জীবাশ্মটি পুনরুদ্ধার করেন। যদিও তখন এর বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবুও অবশিষ্ট অংশ বিশ্লেষণ করেই গবেষকরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করতে সক্ষম হন।

গবেষণায় ব্যবহৃত কশেরুকার ব্যাস ছিল প্রায় ২৩ সেন্টিমিটার। এই তথ্যের ভিত্তিতে কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, সংশ্লিষ্ট মেগালোডনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফুট হতে পারে। তবে এর লেজ ও পাখনার প্রকৃত আকার সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
![]()
গবেষণায় আরও জানা গেছে, মেগালোডনের খাদ্যতালিকা ধারণার চেয়েও অনেক বিস্তৃত ছিল। জীবাশ্মের সঙ্গে অন্য প্রজাতির হাঙরের আঁশ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বাস্কিং হাঙরের দেহাংশও ছিল বলে গবেষকদের ধারণা।
গবেষণা দলের প্রধান, শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটির জীবাশ্মবিদ কেনশু শিমাদা বলেন, জীবাশ্মের সঙ্গে বাস্কিং হাঙরের অসংখ্য আঁশ পাওয়া গেছে। এটি দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। অর্থাৎ মেগালোডনের পাকস্থলীতে বাস্কিং হাঙরের দেহাংশ ছিল।

গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যে মেগালোডনের জীবাশ্মটি পরীক্ষা করা হয়েছে, মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল অন্তত ৬৪ বছর। তবে কম্পিউটার মডেলের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীদের ধারণা, অনুকূল পরিবেশে একটি মেগালোডন প্রায় ৯৬ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারত।

গবেষকদের মতে, নতুন এই গবেষণা মেগালোডনের আকার, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনকাল সম্পর্কে পূর্বের ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর সামুদ্রিক শিকারিকে নতুনভাবে জানার সুযোগ তৈরি করেছে।
আরটিভি/এসকে