images

ফিচার

স্বচ্ছতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে আলোচনায় হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির কার্যক্রম

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০১:২৩ পিএম

অবরুদ্ধ গাজা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নথিভিত্তিক স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং ধারাবাহিক ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে একটি ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এইচসিএসবি)। সংস্থাটির দাবি, প্রতিটি প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যন্ত সবকিছুই সুনির্দিষ্ট নথি, ভিডিও রেকর্ড ও অডিটের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গাজা ও সুদানে পরিচালিত মানবিক কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ, মিসর এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় টিমের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে সংস্থাটি। মিসরে অবস্থানরত গাজা ও সুদানের শরণার্থী আলেমদের সহযোগিতায় গাজা ও সুদানের ভেতরে পৃথক টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক দায়িত্ববোধ এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শিক্ষা থেকেই এই মানবিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা এসেছে বলে দাবি করে সংস্থাটি। সেই চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশের মানুষের সহযোগিতা মজলুম জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মুহসিন রশিদ, অ্যাডভোকেট নাজমুস সাদাত এবং এক্সিলেন্স ফার্মের আইনি পরামর্শ ও প্রত্যয়নের ভিত্তিতে ট্রাভেলিং ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে গাজা ও সুদানে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, গাজার ছয়টি হাসপাতালের লিখিত অনুমোদনের ভিত্তিতে সেখানে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি গাজার লাইসেন্সপ্রাপ্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠান রাওয়াফিদ আল-খায়ের ইয়ুথ সেন্টারের সহযোগিতায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ফুড বাস্কেট বিতরণ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিসরের ইজিপশিয়ান ইয়ুথ কাউন্সিলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় মিসরে আশ্রয় নেওয়া গাজা ও সুদানের শরণার্থীদের জন্যও বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

গাজার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংস্থাটি জানায়, সীমান্ত বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ কার্যত নেই। ফলে অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার মতো স্থানীয় বাজার থেকেই উচ্চমূল্যে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ক্রয়ের রসিদ ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে বিদেশে মানবিক কার্যক্রমের দেশের অভ্যন্তরেও এইচসিএসবি খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ উপহার, হুইলচেয়ার প্রদান, কুরবানি কর্মসূচি এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সংস্থাটির কার্যক্রম স্থান পেয়েছে। আল জাজিরা গাজায় পরিচালিত কার্যক্রম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে। এছাড়া ফিলিস্তিন ন্যাশনাল টিভি, ফিলিস্তিন টিভি, সুদান ন্যাশনাল টিভি, আলজারকা টিভি, তাইবা টিভি এবং মিসর টাইমসে সংস্থাটির কার্যক্রম প্রচারিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গাজা ও সুদান কার্যক্রম নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

স্বচ্ছতার বিষয়টি তুলে ধরে সংস্থাটি জানায়, প্রতিটি কার্যক্রমে ইউনিফর্ম পরিহিত টিম, ব্যানার, নির্দিষ্ট দিন-তারিখসহ ভিডিও ডকুমেন্টেশন সংরক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি আর্থিক লেনদেন, রসিদ, প্রত্যয়নপত্র, ট্রাভেলিং ডকুমেন্ট, পাসপোর্ট কপি এবং মাঠপর্যায়ের নথিপত্র মাসভিত্তিক সংরক্ষণ শেষে ডিভিসি হোল্ডার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে বাৎসরিক অডিটে উপস্থাপন করা হয়। এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বহু প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী বর্তমানে সরাসরি তাদের গাজা ও সুদান কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, গাজা ও সুদানের মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক নয়, বরং মুসলমান হিসেবে একটি ঈমানি দায়িত্ব। তাই সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নথিভিত্তিক জবাবদিহিতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই প্রতিটি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবিক এই উদ্যোগে দেশ-বিদেশের সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

আরটিভি/এসকে