সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২৬ পিএম
রাস্তাঘাটে, পার্কে কিংবা খোলা জায়গায় প্রস্রাব বা পায়খানা করার পর কুকুরকে প্রায়ই পেছনের পা দিয়ে জোরে মাটি বা ঘাস ছিটাতে দেখা যায়। অনেকের কাছে এটি অদ্ভুত বা অপ্রয়োজনীয় আচরণ মনে হলেও, প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে এটি কুকুরের সহজাত ও স্বাভাবিক একটি যোগাযোগের পদ্ধতি।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপাখি বিশেষজ্ঞ কার্লো সিরাকুসার মতে, মলমূত্র ত্যাগের পর মাটি আঁচড়ে বা লাথি মেরে কুকুর আসলে অন্য কুকুরদের জন্য একটি বার্তা রেখে যায়। এর মাধ্যমে তারা শুধু নিজেদের এলাকা চিহ্নিত করে না, বরং জানিয়ে দেয় যে তারা সম্প্রতি ওই স্থানে উপস্থিত ছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কুকুরের লাথিতে ছিটকে যাওয়া মাটি ও ঘাসের সঙ্গে মলমূত্রের গন্ধ আরও বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে মাটিতে দৃশ্যমান আঁচড়ের দাগ তৈরি হয়। ফলে অন্য কুকুর গন্ধ শুঁকে এবং দাগ দেখে সহজেই বুঝতে পারে সেখানে আগে একটি কুকুর এসেছিল এবং আনুমানিক কতক্ষণ আগে এসেছে।
গবেষকদের মতে, এই আচরণের শিকড় রয়েছে কুকুরের পূর্বপুরুষ নেকড়ের মধ্যে। বুনো নেকড়ে নিজেদের সীমানা নির্ধারণ, অন্য নেকড়েকে সতর্ক করা এবং বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদানের জন্য গন্ধ ব্যবহার করে। পোষা কুকুরদের মধ্যেও সেই জিনগত বৈশিষ্ট্য এখনো রয়ে গেছে।
২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, মুক্তভাবে চলাফেরা করা কুকুররা মাটিতে আঁচড় কেটে নিজেদের ব্যক্তিগত এলাকা চিহ্নিত করে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতেও এই আচরণ ব্যবহার করে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী কুকুরের তুলনায় পুরুষ কুকুর নিজেদের এলাকা নিয়ে বেশি সচেতন। আশপাশে অন্য কোনো পুরুষ কুকুরের উপস্থিতি টের পেলে তারা আরও বেশি আগ্রাসীভাবে গন্ধ ছড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।
বিজ্ঞানীরা আরও জানান, কুকুরের পায়ের থাবায় বিশেষ ধরনের গন্ধগ্রন্থি রয়েছে। ধারণা করা হয়, মাটিতে আঁচড় কাটার সময় এই গ্রন্থি থেকেও গন্ধ বা রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে প্রস্রাব বা মলত্যাগের গন্ধের সঙ্গে মিশে যায়। তবে এসব রাসায়নিক বা ফেরোমনের প্রকৃতি ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনো বিস্তারিত গবেষণা হয়নি।
২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কুকুর শুধু থাবার গন্ধ শুঁকেই এক কুকুরকে অন্য কুকুর থেকে আলাদা করতে পারে। তবে এই গন্ধের মাধ্যমে কুকুরটি পুরুষ নাকি স্ত্রী তা শনাক্ত করা সম্ভব কি না, সেটি এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, তাই পার্কে বা রাস্তায় কুকুরের মাটি লাথি দেওয়া কোনো খারাপ অভ্যাস নয়। বরং এটি তাদের স্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগ, এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং নিজেদের উপস্থিতির তথ্য অন্য কুকুরদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রাকৃতিক উপায়।
আরটিভি/এসকে