মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ১২:৩২ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি পুরোনো ছবি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, এক নারী ধারাবাহিকভাবে একজন টাক মাথার পুরুষের মাথায় চুম্বন করছেন। অনেকেই এটিকে মজার বা সাজানো ছবি মনে করলেও ইতিহাস বলছে, এটি ছিল ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে লিপস্টিকের কার্যকারিতা পরীক্ষার একটি বাস্তব পদ্ধতি।

তৎকালীন সময়ে প্রসাধনী কোম্পানিগুলো নতুন লিপস্টিকের রং, স্থায়িত্ব ও দাগের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করতে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করত। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে টাক মাথার পুরুষদের পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। চুলবিহীন, মসৃণ মাথার ত্বকে লিপস্টিকের দাগ স্পষ্টভাবে দেখা যেত বলে গবেষকদের জন্য বিভিন্ন ফর্মুলার তুলনা করা সহজ হতো।

পরীক্ষার সময় নারী স্বেচ্ছাসেবীরা নতুন তৈরি লিপস্টিক ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিদের মাথা বা মুখে চুম্বন করতেন। এরপর গবেষকরা দাগের আকৃতি, রঙের ঘনত্ব, ছড়িয়ে পড়ার ধরন এবং কতক্ষণ স্থায়ী থাকে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করতেন। এটি ছিল বাস্তব ব্যবহারভিত্তিক একটি পরীক্ষামূলক পদ্ধতি।
এই অদ্ভুত পরীক্ষার সবচেয়ে পরিচিত ছবিগুলো তুলেছিলেন মার্কিন আলোকচিত্রী Yale Joel। সে সময় তিনি Life magazine-এর জন্য বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতেন। পরবর্তীতে তার তোলা ছবিগুলো ঐতিহাসিক আর্কাইভে সংরক্ষিত হয় এবং ডিজিটাল যুগে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কিছু ভুল ধারণাও প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সে সময় সব প্রসাধনী কোম্পানিই নিয়মিত টাক মাথার পুরুষ নিয়োগ করত। বাস্তবে এটি ছিল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত একটি বিশেষ পরীক্ষামূলক পদ্ধতি, যা কখনোই পুরো শিল্পের বাধ্যতামূলক মানদণ্ড ছিল না।
সে সময় লিপস্টিক পরীক্ষার আরও নানা পদ্ধতি চালু ছিল। যেমন, স্বেচ্ছাসেবীদের দীর্ঘ সময় ব্যবহার করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ, কাপড় বা কাগজে দাগ পরীক্ষা, কাচসহ বিভিন্ন মসৃণ পৃষ্ঠে রঙের স্থায়িত্ব যাচাই এবং বিভিন্ন ধরনের ত্বকে ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন।

বর্তমানে প্রসাধনী গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ডার্মাটোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা, কৃত্রিম ত্বক, ডিজিটাল ইমেজ বিশ্লেষণ, ল্যাবভিত্তিক স্থায়িত্ব পরীক্ষা এবং ভোক্তা প্যানেলের মাধ্যমে পণ্যের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি অনেক দেশেই প্রসাধনী পরীক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ও নৈতিক নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের দৃষ্টিতে টাক মাথার পুরুষদের দিয়ে লিপস্টিক পরীক্ষা অস্বাভাবিক মনে হলেও, সে সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও গবেষণার বাস্তবতায় এটি ছিল একটি কার্যকর পরীক্ষামূলক পদ্ধতি। আর ইয়েল জোয়েলের ক্যামেরায় বন্দি সেই মুহূর্তগুলো আজ শুধু কৌতূহলের বিষয় নয়, বরং প্রসাধনী শিল্পের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও বিবেচিত হয়।
সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন, মিডিয়াম
আরটিভি/এসকে