images

স্বাস্থ্য

হাসপাতালে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুস জনিত রোগীর চাপ 

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ০১:৪৫ পিএম

বাংলাদেশে মৌসুমি পরিবর্তন, ধুলাবালি, আর্দ্রতা, বদ্ধ ঘর, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ এবং নগর জীবনের দূষণ—সব মিলিয়ে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত অস্বস্তি বহু পরিবারের জন্য নিয়মিত উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে অনেক মানুষ কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট, বুক ভারী লাগা, অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসজনিত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। সমস্যা গুরুতর হলে চিকিৎসা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সচেতনতা না থাকলে একই সমস্যা বারবার ফিরে আসতে পারে।

1

অনেকেই অসুস্থ হলে ওষুধ খান, চিকিৎসকের কাছে যান, ইনহেলার ব্যবহার করেন বা অ্যান্টিহিস্টামিন নেন। কিন্তু অসুস্থতার সম্ভাব্য ট্রিগারগুলো ঘরের ভেতরেই আছে কি না, তা ভাবেন না। ঘরে যদি ধুলো জমে থাকে, বাতাস চলাচল কম থাকে, আর্দ্রতা বেশি থাকে, বিছানার চাদর বা পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার না হয়, ঘর ভ্যাপসা থাকে বা কোনো ধরনের ফাঙ্গাসের গন্ধ থাকে—তাহলে শ্বাসজনিত অস্বস্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অ্যাজমা বা অ্যালার্জি-প্রবণ মানুষের ক্ষেত্রে পরিবেশ একটি বড় বিষয়।

আরও পড়ুন
3

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু 

শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেক সময় হঠাৎ বেড়ে যায়। কিন্তু তার পেছনে দীর্ঘদিনের অবহেলা থাকতে পারে। যেমন, ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত ধুলো, বন্ধ জানালা, অপর্যাপ্ত আলো, ভেজা কাপড়, পোষা প্রাণীর লোম, পুরোনো কার্পেট, অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ এসব উপাদান একসঙ্গে মিলে অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই শুধু চিকিৎসা নয়, ঘরের পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।

বাংলাদেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে বর্ষাকাল ও শীতের সময় এই সচেতনতা আরও প্রয়োজন। বর্ষায় ঘরে পানি ঢোকা, ছাদ বা জানালার পাশে ভেজাভাব, কাপড় শুকাতে দেরি হওয়া এবং ঘর দীর্ঘসময় বন্ধ থাকা—এসব কারণে বাতাসের মান খারাপ হতে পারে। শীতে আবার জানালা বন্ধ থাকার কারণে বাতাস চলাচল কমে যায়। এই দুই সময়েই শ্বাসজনিত রোগীদের বাড়তি সতর্কতা দরকার।

18caddfc-6f47-4567-9de1-2515161d40b3

পরিবারের কেউ যদি বারবার কাশি, শ্বাসকষ্ট, নাক বন্ধ, বুক ভারী লাগা বা অ্যালার্জিতে ভোগেন, তাহলে চিকিৎসার পাশাপাশি ঘরের পরিবেশও পরীক্ষা করা উচিত। ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করা, ধুলো কমানো, আলো-বাতাস ঢোকানো, আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা এবং অস্বাস্থ্যকর গন্ধ বা ফাঙ্গাসের লক্ষণ দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। শিশু ও বয়স্ক মানুষের ঘরে এই যত্ন আরও বেশি প্রয়োজন।

1.jpg

হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলেই হবে না। পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রতিটি ঘর যদি একটু বেশি পরিষ্কার, শুকনো এবং শ্বাসবান্ধব হয়, তাহলে অনেক অস্বস্তি আগেই কমানো সম্ভব হতে পারে। শ্বাসের যত্ন শুরু হোক ঘর থেকে—এই ভাবনাটিই আজকের সময়ের জরুরি বার্তা।

আরটিভি/এমএ