মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ০৫:২৪ পিএম
রাজধানীতে হাম-পরবর্তী জটিলতায় সাত মাস বয়সী যমজ শিশুর একজন ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তার যমজ বোন খাদিজা অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে, তবে এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয়।
পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর দুই শিশুকে নিয়ে একাধিক হাসপাতালে ঘুরেও সময়মতো প্রয়োজনীয় শয্যা ও পিআইসিইউ সুবিধা পাওয়া যায়নি। এতে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়েছে।
শিশু দুটির মা শাহানা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে জ্বর, কাশি ও ঠান্ডা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে খাদিজা ও ফাতেমা। প্রথমে নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা শুরু হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকায় আনা হয়। এরপর রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরতে হয় শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য।
তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও শয্যা খালি না থাকা, কোথাও অক্সিজেনের সংকট, আবার কোথাও পিআইসিইউ না পাওয়ার কারণে চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব হয়। পরে একটি হাসপাতালে দুই শিশুকে ভর্তি করা হলেও একদিন পর ফাতেমাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়। কিছুদিন পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে ফাতেমাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ সময় তাকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারেননি।
এদিকে একই সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে পরিবারের আরেক সন্তানও। ফলে তিন শিশুকে পৃথক স্থানে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চরম সংকটে পড়ে পরিবার।
শাহানা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, একসঙ্গে তিনজন অসুস্থ থাকায় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসা ব্যয়ও ছিল উল্লেখযোগ্য। ফাতেমার চিকিৎসায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। পিআইসিইউতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হওয়ায় ধার-দেনা করতে হয়েছে এবং স্বর্ণালংকার বিক্রি করতে হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমার মৃত্যু হয়। পরিবার অভিযোগ করেছে, চিকিৎসায় অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
অন্যদিকে যমজ বোন খাদিজা বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার জ্বর ও কাশি এখনও পুরোপুরি সেরে যায়নি এবং নতুন করে র্যাশ দেখা দিয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা ও নিবিড় পরিচর্যা সুবিধার অভাব এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ঘটনাটি রাজধানীর স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরটিভি/এমএইচজে