মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ , ০৬:২৫ পিএম
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় থাকা আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং প্রকল্পে কর্মরত হাজারো কর্মকর্তা–কর্মচারীর চাকরি বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১১টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় মহাখালীতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্পের ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও এফডব্লিউভিসহ কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের। এডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রকল্পের আওতায় ১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ১৮টি পৌরসভা এলাকায় মোট ১৯২টি নিজস্ব কেন্দ্র এবং ভাড়া করা ভবনে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই সেবা কার্যক্রমটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এর ফলে ৪ হাজার ৩৮২ জন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর ভবিষ্যৎ এবং কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বক্তারা প্রকল্পের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে আরও জানান, ২০১৮ সালের ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ লক্ষ ৬০ হাজার প্রসব-পূর্ববর্তী সেবা এবং ১ লক্ষ ৯০ হাজার শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিত করার মতো মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশ সরকারের নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রম, পোলিও, হাম-রুবেলা, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এই কর্মীবাহিনী। নীতিমালা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলোতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত ৩০ শতাংশ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এমন একটি সফল ও মানবিক প্রকল্পের জনবলকে বাদ দিয়ে নগরবাসীর নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে তারা দাবি করেন।
পরে মানববন্ধন শেষে আন্দোলনরত কর্মীরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এরপর কর্মীরা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা জানান। উভয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মীদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে দ্রুত আলোচনার কথা জানানো হয়েছে।
দক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং দরিদ্র মানুষের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিই এখন এই প্রকল্পের হাজার হাজার কর্মীর মূল দাবি।
আরটিভি/এমএম