বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ , ০৬:৪১ পিএম
বিয়ের ১৪ বছর পর স্বামী জানতে পেরেছেন স্ত্রী বাংলাদেশি নাগরিক। আর এরপরই স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। এমনকি স্ত্রী তাকে ব্যবহার করে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলেও দাবি ওই স্বামীর। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
এতে বলা হয়, বিয়ের ১৪ বছর পর কলকাতার তাবিশ এহসান নামের এক ব্যবসায়ী তার স্ত্রী নাজিয়া আমব্রিন কুরাইশির জাতীয়তা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ১৪ বছর আগে বিয়ে হলেও সম্প্রতি তাবিশ জানতে পারেন তার স্ত্রী আসলে বাংলাদেশি নাগরিক। আর এরপরই তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাবিশ এহসানের অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তার স্ত্রী তাকে ব্যবহার করেছেন।
২০০৯ সালে নাজিয়া আমব্রিন কুরাইশির সঙ্গে বিয়ে হয় ৩৭ বছর বয়সী তাবিশ এহসানের। তিনি পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের বাসিন্দা। বিয়ের সময় নাজিয়া নিজেকে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। উভয় পরিবারের মাধ্যমে তখন বিয়ে হয় এবং ২০২২ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল।
ব্যবসায়ী তাবিশ বলেন, আমি নাজিয়ার সঙ্গে প্রথমবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা করি। এরপর আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা বিয়েতে রাজি হওয়ায় আমরা বিয়ে করি। বিয়ের আগে নাজিয়া উত্তরপ্রদেশে জন্ম এবং সেখানে বড় হয়েছেন বলে দাবি করেন। প্রাথমিকভাবে তার নাগরিকত্ব নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ ছিল না। তবে, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের আগে হঠাৎ করেই নাজিয়া একদিন উত্তরপ্রদেশে তার বাবার বাড়ি যান। এরপর আমার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান, নাজিয়া আর ফিরবে না। এমনকি তার (নাজিয়া) পরিবারের সদস্যরা হুমকিও দেন।
এরপর নাজিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তাবিশের বিরুদ্ধে ৪৯৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। কলকাতার আলিপুর আদালত থেকে মামলায় জামিন নেন তিনি। আর তখনই তাবিশ তার স্ত্রী নাজিয়ার আসল জাতীয়তা সম্পর্কে জানতে পারেন। একজন আত্মীয়ের কাছে জানতে পারেন যে, তার স্ত্রী নাজিয়া আসলে একজন বাংলাদেশি নাগরিক।
ব্যবসায়ী তাবিশ বলেন, আমি জানতে পারি আমার সঙ্গে বিয়ের আগে বাংলাদেশে একবার বিয়ে হয়েছিল তার। এক শিক্ষকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিয়েবিচ্ছেদ করতে তাকে বাধ্য করা হয়। এরপর অবৈধভাবে ভারতে চলে যায় নাজিয়া ও তার পরিবার। তারপর ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে আমাকে বিয়ে করে। তারা চক্রান্ত করে আমাকে ব্যবহার করেছে।
তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কানাডায় ছিলেন নাজিয়া। পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি কানাডায় ছিলেন। কীভাবে এটা সম্ভব হলো এর তদন্ত করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার, পাসপোর্ট দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কলকাতার তিলজলা থানায় স্ত্রী নাজিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। তবে, এ বিষয়ে একাধিক কাগজপত্র সামনে আনার পরও আমার অভিযোগের ব্যাপারে কাজ করছে না পুলিশ।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত নাজিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।