images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য

স্বপ্ন ফিরে যাচ্ছে বাড়ি, অথচ স্বাগত জানানোর কেউ নেই

মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫ , ০২:০০ পিএম

আজ বাড়ি ফেরার দিন। বাড়িতে গিয়ে দেখবো মা বসে আছেন, হাতে খাবারের থালা, অপেক্ষায় শুধু আমাকেই খাওয়াবেন বলে। কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়। মায়ের তো বেঁচে থাকা দরকার, আর সেই মা এখন নেই। নেই কোনো রক্তের বন্ধন, নেই সেই পরিচিত মুখগুলো। যারা ছিল, তারা ছিন্নভিন্ন দেহ নিয়ে, অনেক অভিমান জমিয়ে চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে। তবু এক ধরনের শান্তি কাজ করে মনে যেন নিজের ঘরে ফিরছি। ঘর ভাঙা হোক, নিশ্চিহ্ন হোক, কিন্তু সেটাই তো নিজের।

এই অনুভূতিই এখন হাজারো গাজাবাসীর মধ্যে। কেউ ফিরছে পরিবার নিয়ে, কেউ একেবারে নিঃস্ব হয়ে। কেউ কাঁধে শিশুকে বয়ে হাঁটছে, কেউ গাড়ির ছাদে বসে ফিরে যাচ্ছে উত্তরের পথে। তাদের চোখে ক্লান্তি, শরীরে ধুলোর স্তর, কিন্তু মুখে লেগে আছে একটাই স্বপ্ন আবার নিজের ঘরে ফিরব।

ফিরে গিয়ে অনেকেই দেখছে, ঘরের কোনো চিহ্নই আর নেই। খালিদ আল-রাস নামের এক ব্যক্তি বলেছিলেন, তিনি ফিরে গিয়ে নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই পাননি। তিনি বলেছিলেন, এই পরিস্থিতি চলতে পারে না, তাদের দরকার প্রকৃত সমাধান। কিন্তু তবুও তিনি থেমে যাননি। কারণ, তার বিশ্বাস, একদিন এই ধ্বংসস্তূপেই আবার গড়ে উঠবে জীবন।

গাজার মানুষ বলছে, তারা ক্লান্ত খাবারের অভাব, পানির কষ্ট, প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই। তারা এখন শুধু চায় কেউ যেন সত্যিকারের পাশে দাঁড়ায়। যেন আবার গড়ে ওঠে তাদের স্কুল, হাসপাতাল, বাজার—যেখানে শিশুরা হাসবে, মানুষ কাজ করবে, জীবন ফিরে পাবে ছন্দ। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী সরে গেছে গাজার ইয়েলো লাইন পর্যন্ত। চুক্তির প্রথম ধাপে নির্ধারিত হয়েছে যুদ্ধবিরতি, ত্রাণ সরবরাহ, বন্দি বিনিময় ও সেনা প্রত্যাহার। পরবর্তী ধাপে আলোচনা হবে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও পুনর্গঠন নিয়ে।

নতুন করে শুরু করার স্বপ্ন নিয়েই রওনা দিয়েছে গাজাবাসী আপন ঠিকানায় ফিরবে বলে। কেউ ভাবছে ঘরটা আবার দাঁড় করাবে, কেউ স্কুলের ছাদে আবার তুলবে পতাকা। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায় এই খুশি কতদিন থাকবে? ইতিহাস তো বলছে, গাজার মানুষ যতবারই শান্তির স্বপ্ন দেখেছে, ঠিক ততবারই সেই স্বপ্ন ভেঙে পড়েছে বোমার শব্দে। আজ যুদ্ধবিরতির কালি শুকায়নি, কালই যদি আবার কোনো ইসরায়েলি ড্রোন আকাশে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে কি আবার সেই দুঃস্বপ্ন ফিরে আসবে না?

আরটিভি/এআর