বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ , ০৯:০৬ এএম
কল্পনা করুন, যিনি বহু বছর ধরে অন্ধকার ছাড়া আর কিছু দেখেননি, তিনি হঠাৎ আবার আলোর ঝলকানি দেখতে পাচ্ছেন, বইয়ের অক্ষর চিনতে পারছেন। এই অবিশ্বাস্য স্বপ্ন এখন বাস্তব। লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হসপিটালে একদল দৃষ্টিহীন রোগীর চোখে অত্যাধুনিক একটি মাইক্রোচিপ ইমপ্লান্ট সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, আন্তর্জাতিক এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল চমকপ্রদ এবং দৃষ্টিহীনদের জন্য এটি অভূতপূর্ব আশার সঞ্চার করেছে।
এই প্রযুক্তির সাহায্যে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া সত্তর বছর বয়সী রোগী শিলা আরভিন এখন আবার বই পড়তে এবং ক্রসওয়ার্ড মেলাতে পারছেন। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এটিকে অভূতপূর্ব এক অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেন। উইল্টশায়ারের বাসিন্দা শিলা প্রায় ৩০ বছর আগে তার দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করেন। ইমপ্লান্ট বসানোর পর তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, আমি খুবই খুশি। প্রযুক্তি এত দ্রুত এগোচ্ছে, আমি এর অংশ হতে পেরেছি।
কী এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি?
ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক বায়োটেক সংস্থা সায়েন্স করপোরেশনের তৈরি প্রিমা ইমপ্লান্ট নামক এই মাইক্রোচিপটিই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। এটি মূলত ড্রাই এজ-রিলেটেড মাকুলার ডিজেনারেশন (যা জিওগ্রাফিক অ্যাট্রোফি নামে পরিচিত)—এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য তৈরি। এই রোগে রেটিনার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দৃষ্টি ঝাপসা বা বিকৃত হয়ে যায়।
যেভাবে কাজ করে এই মাইক্রোচিপ:
ইমপ্লান্ট স্থাপন: একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষের চুলের মতো পাতলা, ২ মিলিমিটার আয়তনের বর্গাকার একটি ফটোভোলটাইক মাইক্রোচিপ রেটিনার ঠিক নিচে স্থাপন করা হয়।
দৃষ্টিশক্তির প্রক্রিয়া: রোগীরা এরপর বিশেষ এক ধরনের চশমা পরেন, যাতে থাকা ক্যামেরা ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে চিত্র ইমপ্লান্টে পাঠায়। এই তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্ক প্রক্রিয়া করে রোগীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়।
মুরফিল্ডস আই হসপিটালের কনসালট্যান্ট অপথ্যালমিক সার্জন ড. মাহী মুকিত, যুক্তরাজ্যের এই ট্রায়ালের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি প্রথম ইমপ্লান্ট যা রোগীদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছে। তারা পড়া এবং লেখার মতো কাজে এটি ব্যবহার করতে পারছেন। আমি মনে করি এটি একটি বড় অগ্রগতি।
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ইউরোপের পাঁচটি দেশের ৩৮ জন রোগী এই ট্রায়ালে অংশ নেন। ৩২ জনের চোখে ইমপ্লান্ট বসানো হয়, যার মধ্যে ২৭ জন পড়তে সক্ষম হয়েছেন। এক বছর পর, তাদের দৃষ্টিশক্তি আরও উন্নত হয়।
ড. মুকিত আশা প্রকাশ করেছেন, এই প্রযুক্তিটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর রোগীদের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
আরটিভি/এআর