images

আন্তর্জাতিক / ভারত

দিল্লিতে প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টিপাত কবে হবে, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ , ০৫:১৭ পিএম

ভারতে দীপাবলি উৎসব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশটির রাজধানী দিল্লীর আকাশ ঢেকেছে ঘন ধোঁয়াশা আর বিষাক্ত দূষণের চাদরে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি সরকার এখন প্রকৃতিকে অনুকরণ করে এক বৈজ্ঞানিক সমাধানের পথে হাঁটছে। শুক্রবার(২৪ অক্টোবর) রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেত্রী রেখা গুপ্তা ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম বৃষ্টিপাতকে রাজ্যের জন্য একটি অপরিহার্য প্রয়োজন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। 

মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, কৃত্রিম বৃষ্টিপাত দিল্লির জন্য একটি প্রয়োজনীয়তা এবং এটি এই ধরনের প্রথম পরীক্ষা। আমরা দেখতে চাই, এটি আমাদের এই মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে কি না।

তিনি দিল্লিবাসীর কাছে এই উদ্যোগের জন্য আশীর্বাদও চেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লির মানুষের আশীর্বাদ সরকারের সাথে আছে এবং আমরা মনে করি এটি একটি সফল পরীক্ষা হবে। ভবিষ্যতে আমরা এই পরিবেশগত সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।

আরও পড়ুন
8948548541

কলকাতায় পুলিশ বলছে দূষণ কম, মানছেন না পরিবেশবিদরা

রাজ্যটির বুরারি এলাকায় পরীক্ষামূলক অভিযান পরিচালনার পর মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আগামী সপ্তাহে রাজধানী তার প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টির সাক্ষী হবে। সামাজিক মাধ্যম এক্স (আগের টুইটার)-এ তিনি জানান, আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৮, ২৯ এবং ৩০ অক্টোবর মেঘলা আবহাওয়া প্রত্যাশিত। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ২৯ অক্টোবর দিল্লিতে প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগটি কেবল প্রযুক্তিগতভাবে ঐতিহাসিক নয়, বরং দিল্লিতে দূষণ মোকাবিলার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও প্রতিষ্ঠা করবে। সরকার এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে রাজধানীর বাতাস পরিষ্কার করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়।

দীপাবলি উৎসবের সময় ব্যাপক আতশবাজি পোড়ানো এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ফসল পোড়ানোর কারণে দিল্লি-এনসিআর-এর বাতাসের গুণমান মারাত্মক শ্রেণিতে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের আগমনকালে দূষণ বাড়লেও, গত কয়েক দিনে ফটোক্যামিক্যাল দূষক (যেমন ওজোন ও কার্বন মনোক্সাইড) এর বদলে দ্রুত পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ ও পিএম২.৫) বেড়েছে। বিশেষ করে, দীপাবলির দিন অর্থাৎ ২০ অক্টোবর থেকে ওজোন ও কার্বন মনোক্সাইড এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স চার্ট থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছে, যার জায়গা নিয়েছে এই ক্ষুদ্র কণাগুলো। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, মূলত আতশবাজি, যানবাহন, শিল্পকারখানা এবং স্থানীয়ভাবে আবর্জনা পোড়ানো থেকে নির্গমন ব্যাপক হারে বেড়েছে।  

আরটিভি/এআর