images

আন্তর্জাতিক / ভারত

আদানিকে বাঁচাতে গোপনে ৩৯০০ কোটি রুপির ব্যবস্থা করেন মোদি

শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ , ০৮:৫৮ পিএম

নানা অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত শিল্পপতি গৌতম আদানিকে যখন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দিতে দ্বিধায় ভুগছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নীরবে তার পাশে দাঁড়ালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।  মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্টে’ প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুসারে, মোদি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা লাইফ ইনস্যুরেন্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এলআইসি)-কে ব্যবহার করে এই বিতর্কিত শিল্পপতির ঋণগ্রস্ত সংস্থাকে বাঁচাতে গোপনে ৩.৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৯০০ কোটি রুপি) বিনিয়োগের কৌশল তৈরি করেছিল।

ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ (ডিএফএস), এলআইসি এবং নীতিনির্ধারণী সংস্থা নীতি আয়োগ সমন্বিতভাবে এই বিনিয়োগ কৌশল তৈরি করে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল আদানি গ্রুপের বন্ড ও ইক্যুইটিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢেলে তাদের প্রতি আস্থার বার্তা দেওয়া এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা।

আরও পড়ুন
8e

রবিবার থেকে এক ঘণ্টা পেছাচ্ছে ইউরোপের ঘড়ির কাঁটা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আদানি পোর্টসের একটি ৫৮৫ মিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যুতে এলআইসি একা অর্থায়ন করে। মে মাসের ৩০ তারিখে আদানি গ্রুপ ঘোষণা করে, পুরো বন্ডটির অর্থায়ন করেছে একটিমাত্র বিনিয়োগকারী—এলআইসি। সমালোচকেরা এই পদক্ষেপকে জনগণের অর্থের অপব্যবহার বলে অভিহিত করেছেন।

ডিএফএস-এর অভ্যন্তরীণ নথিতে ভারতীয় কর্মকর্তারা আদানিকে ‘দূরদর্শী উদ্যোক্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তারা মনে করেন, বন্দর, জ্বালানি এবং অবকাঠামোসহ আদানির ব্যবসাগুলো জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এলআইসি লাখ লাখ ভারতীয়র জীবন বিমা করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ বেসরকারি সংস্থায় এত বেশি বিনিয়োগ করে উচ্চ ঝুঁকি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত স্বাধীন বিশ্লেষক হেমিন্দ্র হাজারি বলেন, একটি বেসরকারি করপোরেট সত্তায় এলআইসির এত বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা অস্বাভাবিক। এলআইসি-এর যদি কিছু হয় তবে একমাত্র সরকারই এটিকে উদ্ধার করতে পারে।

আরটিভি/এআর