মঙ্গলবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৫ , ০৩:৩১ পিএম
অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার জেরে লাতিন আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে পেরু। পেরুর অভিযোগ, মেক্সিকো ২০২২ সালের অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় বিচারাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেৎসি শ্যাভেজকে আশ্রয় দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত রোববার পেরু সরকার এই ঘোষণা দেয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্যাভেজ মেক্সিকোর দূতাবাসে পালিয়ে যান।
পেরুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুগো দে সেলা এক সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকোর এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আজ আমরা বিস্ময় ও গভীর দুঃখের সঙ্গে জেনেছি যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োর কথিত অভ্যুত্থানচেষ্টার অন্যতম অপরাধী বেৎসি শ্যাভেজকে মেক্সিকোর দূতাবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
তিনি মেক্সিকোর এই পদক্ষেপকে অবন্ধুসুলভ আখ্যা দেন এবং অতীতে ও বর্তমানে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টদের বারবার পেরুর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতেই কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান। মেক্সিকো সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
শ্যাভেজের আইনজীবী রাউল নোব্লেসিয়া স্থানীয় রেডিও আরপিপিকে জানান, তিনি কয়েক দিন ধরে তার মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি এবং শ্যাভেজ আশ্রয়ের আবেদন করেছেন কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই।
শ্যাভেজ প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়োর সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। কাস্তিয়ো পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করলে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে অভিশংসন করা হয়। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।
অভিশংসনের পর কাস্তিয়ো মেক্সিকোর লিমা দূতাবাসে আশ্রয়ের চেষ্টা করলেও দূতাবাসে পৌঁছানোর আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। একই মামলায় বেৎসি শ্যাভেজকেও অভিযুক্ত করা হয়।
প্রসিকিউটররা শ্যাভেজের বিরুদ্ধে কাস্তিয়োর সঙ্গে মিলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছেন। প্রসিকিউশন শ্যাভেজের বিরুদ্ধে ২৫ বছরের কারাদণ্ড এবং কাস্তিয়োর বিরুদ্ধে ৩৪ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছে। তবে দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পেরু মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। কারণ, তখন মেক্সিকো কাস্তিয়োর স্ত্রী ও সন্তানদের আশ্রয় দিয়েছিল। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে পেরুর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কাস্তিয়োর পক্ষে কথা বলে পেরুর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে মেক্সিকো সিটিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেন।
আরটিভি/এআর