শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ , ০৪:৪৬ পিএম
ডিজিটাল লেনদেনের যুগে খরচ বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করতে যাচ্ছে তাদের সবচেয়ে কম মূল্যমানের মুদ্রা এক সেন্টের ‘পেনি’। টানা দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা এ ঐতিহ্যের ইতি ঘটবে চলতি সপ্তাহেই। তবে পেনি উৎপাদন বন্ধ হলেও বাজারে থাকা পুরোনো পেনি স্বাভাবিকভাবেই চলবে। বুধবার (১২ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
ফিলাডেলফিয়া মিন্টে বুধবার শেষবারের মতো তৈরি হবে পেনি। এর মাধ্যমে ১৭৯৩ সালে চালু হওয়া এই মুদ্রা ২৩১ বছরের বেশি সময় পর বিদায় নেবে উৎপাদন লাইন থেকে।
মূল্যের চেয়ে উৎপাদন ব্যয় ৪ গুণ! বর্তমানে তামা-প্লেটেড জিঙ্ক দিয়ে তৈরি প্রতিটি পেনি উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৪ সেন্ট যা এর মূল্যের চার গুণ বেশি। এক দশক আগেও এই খরচ ছিল অর্ধেক। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের হিসেবে, পেনি উৎপাদন বন্ধ হলে বছরে সাশ্রয় হবে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফেব্রুয়ারিতে বলেছিলেন, দেশের বাজেট থেকে অপচয় কমাতে হবে, তা যদি এক পেনিও হয়।
ডিজিটাল লেনদেনের চাহিদা বাড়ায় এক সেন্টের ব্যবহার কমেছে দ্রুতগতিতে। এখন বাজারে প্রচলিত পেনির সংখ্যা প্রায় ৩০০ বিলিয়ন, যা বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। যথারীতি ব্যবহার কম হওয়ায় দেশজুড়ে পরিবারের ঘরে জমে থাকা পেনির গড় মূল্য ৬০–৯০ ডলার, যা প্রায় ৬০ শতাংশ কয়েনই ব্যবহারহীন।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই দাম সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এক সেন্ট বাদ পড়ায় ভবিষ্যতে দাম পূর্ণ সংখ্যায় রাউন্ড করতে হবে।
রিচমন্ড ফেডের গবেষণায় বলা হয়েছে এতে বছরে ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বাড়তে পারে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বের আর কোথায় বাদ পড়েছে স্বল্পমূল্যের কয়েন?
কানাডা: শেষবার ১ সেন্ট তৈরি করে ২০১২ সালে
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড: ১৯৯০-এর দশকে ১ ও ২ সেন্ট বাদ
নিউজিল্যান্ড: ২০০৬ সালে ৫ সেন্টও বন্ধ
যুক্তরাজ্য: ২০২৪ সালে ১ ও ২ পেনি উৎপাদন বন্ধ
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি গেছে পাঁচ সেন্টের ‘নিকেল’ মুদ্রার দিকে, যা তৈরি করতে লাগে প্রায় ১৪ সেন্ট অর্থাৎ মূল্যমানের তিন গুণেরও বেশি।
রিচমন্ড ফেডের হিসাবে, নিকেল উৎপাদন বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের বাড়তি খরচ হতে পারে বছরে ৫৫ মিলিয়ন ডলার।
মুদ্রা উৎপাদন খরচ, ডিজিটাল যুগের পরিবর্তন ও বাজার বাস্তবতা সব মিলিয়ে আমেরিকার অর্থনীতিতে এটি বড় একটি নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরটিভি/এসকে