মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ , ০১:১৫ পিএম
Failed to load the video
মরুভূমির নিস্তব্ধতা ভেঙে নেভাদার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল একটি যুদ্ধবিমান—যা বিশ্বের শক্তির ভারসাম্যে মুহূর্তেই নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশ্বজুড়ে যখন চলছে পারমাণবিক উত্তেজনা, ঠিক তখনই প্রচলিত পারমাণবিক বোমার চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিশালী থার্মোনিউক্লিয়ার বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার(১৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে রুশ বার্তা সংস্থা তাস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে।
নেভাদার একটি টেস্ট সাইটে এফ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান দিয়ে চালানো হয় ওয়ারহেডবিহীন এই মারণাস্ত্রের পরীক্ষা। যার নাম B61-12। গেল আগস্টে চালানো এই পরীক্ষার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে সম্প্রতি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা সংস্থা স্যান্ডিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ এই পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে কোনো যুদ্ধাস্ত্র ছাড়াই একটি B61-12 মডেলের কৌশলগত থার্মোনিউক্লিয়ার বোমার পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষাটি ১৯ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সম্পন্ন হয়।
পরীক্ষার অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয় নিষ্ক্রিয় ওয়ারহেডযুক্ত এই বোমা। পুরো পরীক্ষা পরিচালিত হয় ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএনএএ)-এর সমন্বয়ে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, B61-12 বোমার কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই এই পরীক্ষা করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে এনএনএএ এই বোমাগুলোর কার্যকাল আরও ২০ বছর বাড়ানোর একটি আধুনিকায়ন কর্মসূচি সম্পন্ন করে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র এই অস্ত্রকে আরও উন্নত, স্থায়ী এবং কৌশলগতভাবে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছে।
সাধারণত থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা একধরনের হাইড্রোজেন বোমা। এটি প্রচলিত পারমাণবিক বোমার চেয়ে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজারগুণ বেশি শক্তিশালী হয়। বিস্ফোরণের সময় ফিউশন ও ফিশান দুই ধরনের বিক্রিয়া হওয়ায় এর তেজস্ক্রিয়তা অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ১৯৫২ সালে এই হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল।
আরটিভি/এআর