শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫ , ০৪:৫৭ পিএম
Failed to load the video
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক নগরীর নবনির্বাচিত তরুণ মেয়র জোহরান মামদানির হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বিস্ময়কর বৈঠককে ঘিরে পুরো বিশ্বের দৃষ্টি ছিল ওয়াশিংটনের দিকে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী এই দুই বিপরীত মেরুর নেতার প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাতে তীব্র বাক্যুদ্ধ হবে বলে অনেকেই আশঙ্কা করলেও, অতীতের বৈরিতা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে তারা অপ্রত্যাশিতভাবে ঘনিষ্ঠতার বার্তা দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে ঢুকতেই বাতাসে এক বদলের ইঙ্গিত মিলল। ক্যামেরার সামনে তাদের প্রথম দৃশ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ট্রাম্প ছিলেন আশ্চর্য রকম শান্ত, ধীরস্থির এবং চোখেমুখে ছিল খোলা মনোভাব। মামদানি যখন কাছে দাঁড়ালেন, ট্রাম্প উষ্ণতা দেখিয়ে তার হাত চাপড়ে দিলেন। যেন তিনি দীর্ঘদিনের কোনো পরিচিত সহকর্মীকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
সাংবাদিকরা তাকিয়ে দেখল আরও এক অদ্ভুত দৃশ্য। ট্রাম্প মামদানির বাহুতে মজার ছলে হালকা ঘুষি দিয়ে কিছু বোঝালেন, যেন একজন অভিজ্ঞ অভিভাবক নবীন কাউকে সাহস দিচ্ছেন। সেই মুহূর্তে যেন তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা সম্পূর্ণ তলিয়ে গেল।
এদিকে, মামদানি আক্রমণ করে কথা বলার সুযোগ পেলেও তিনি সেই পথে হাঁটেননি। তিনি আলোচনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান তার মূল লড়াইয়ের বিষয়ে—জীবনযাত্রার ব্যয়ের সমস্যা।
সাংবাদিকরা পুরোনো বাকবিতণ্ডা, কড়া সমালোচনা ও রাজনৈতিক দূরত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেও দুই নেতাই সেই সব প্রশ্নের ওপর দিয়ে হেঁটে যান। তারা মতবিরোধে না গিয়ে মিলের জায়গায় জোর দেন। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট, যে ইস্যুতে দুজনই খুব সরব।
সবচেয়ে অবাক করা অংশ ছিল, ট্রাম্প যেন মামদানিকে রক্ষা করার ঢাল হয়ে উঠছিলেন। সাংবাদিকরা যখন পুরোনো তীব্র মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুললেন, ট্রাম্প হাসিমুখে মন্তব্য করেন, কেউ তাকে আরও খারাপও বলেছে! তিনি ইঙ্গিত দিলেন, এখন এগুলো অতীত।
বৈঠক শেষে স্পষ্ট হয়ে গেল—এই সাক্ষাৎ কোনো লড়াই ছিল না, বরং ছিল একটি অস্বাভাবিক শান্ত মুহূর্ত। এই বৈঠকে দুই বিপরীত রাজনৈতিক মেরুর মানুষ হঠাৎ যেন মিলের পথ খুঁজে পেলেন।
আরটিভি/এআর