রোববার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ , ০২:৩১ পিএম
পেরুর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেটসি শ্যাভেজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির একটি আদালত। ২০২২ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় ৩৬ বছর বয়সী শ্যাভেজ রাজধানী লিমায় অবস্থিত মেক্সিকান দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই পেরু এবং মেক্সিকোর মধ্যে সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শ্যাভেজ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পেদ্রো ক্যাস্তিলোর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কংগ্রেস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করার পর ক্যাস্তিলোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, যা অভ্যুত্থানচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত। ক্যাস্তিলোকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি পরিবারসহ মেক্সিকোর দূতাবাসে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। মেক্সিকো পরে ক্যাস্তিলোর স্ত্রী ও সন্তানদের আশ্রয় দেয়। এরপর ক্যাস্তিলোর পাশাপাশি শ্যাভেজের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ গঠন করা হয়।
মার্চ মাসে তাদের বিচার শুরু হলেও ক্যাস্তিলো এখন কারাগারে আছেন, আর শ্যাভেজ জামিনে ছিলেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেটসি শ্যাভেজ মেক্সিকোতে নিরাপদে যাওয়ার অনুমোদন চাওয়ার মধ্যেই দূতাবাসে আশ্রয় নেন। পেরু এই ঘটনাকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ তুলে মেক্সিকোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং দুই দেশই রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়।
প্রসিকিউশন শ্যাভেজের জন্য ২৫ বছর এবং ক্যাস্তিলোর জন্য ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছে। আদালত জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় গ্রেপ্তারের পর শ্যাভেজকে পাঁচ মাস বিচার-পূর্ব আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর লিমায় মেক্সিকান দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পেরুর জাতীয় পুলিশ প্রধান অস্কার আরিওলা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও আশ্রয়ের নিয়ম মেনেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে।
আরটিভি/এআর