বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ , ০৪:৩৫ পিএম
হংকংয়ের তাই পো জেলার একাধিক বহুতল আবাসিক ভবনে কয়েক দশকের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের একদিন পরও ফায়ার সার্ভিস বিভাগ পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার(২৭ নভেম্বর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই হাজার ইউনিটের আটটি ভবনের ওই আবাসিক এলাকায় আগুন লাগার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পরও কিছু জানালায় আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। কালো হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর বাইরের দিকে দমকলকর্মীরা এখনো পানি ছিটাচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ৫১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে মারা গেছেন আরও চারজন, মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে।
বিপর্যয়কর এই অগ্নিকাণ্ড কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে ভবনগুলো ঘিরে থাকা বাঁশের মাচা ও প্লাস্টিকের জালও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থাও আবাসিক কমপ্লেক্সটির সংস্কারকাজ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
আটটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের মধ্যে চারটির আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা হয়েছে এবং আরও তিনটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা কাজ করছেন।
ওয়াং ফুক কোর্টের বাসিন্দারা এএফপিকে বলেছেন, তারা আগুনের বিষয়ে কোনো সতর্ক সংকেত পাননি। সুইন নামের এক বাসিন্দা জানান, আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। আমার মনে হয়েছে একটি মাত্র হোস পাইপ দিয়ে কয়েকটি ভবন বাঁচানোর চেষ্টা করাটা খুবই ধীর। তিনি এবং প্রতিবেশীরা ডোরবেল বাজিয়ে এবং দরজায় নক করে একে অন্যকে সতর্ক করেছেন।
এই দুর্যোগের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলকর্মীরা ছাড়াও নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ছুটে আসেন। ৩৮ বছর বয়সী স্টোন নামে একজন সহায়তা কেন্দ্র চালু করে বলেন, এটা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। হংকংবাসীর মানসিকতা হলো, একজন বিপদে পড়লে সবাই এগিয়ে আসেন।
হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি বলেছেন, যেসব আবাসিক এলাকায় বড় ধরনের নির্মাণকাজ চলছে, সরকার সেগুলোতে অবিলম্বে পরিদর্শন শুরু করবে।
আরটিভি/এআর