শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:০১ পিএম
Failed to load the video
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং প্রধান শক্তিগুলোর বাড়তি প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের কারণে গেল বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে বৈশ্বিক অস্ত্র বিক্রি ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
গেল ১ ডিসেম্বর (সোমবার) প্রকাশিত এসআইপিআরআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম ১০০টি প্রতিরক্ষা কোম্পানির সম্মিলিত রাজস্ব ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৯ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। এসআইপিআরআই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে ইউক্রেন এবং গাজার চলমান যুদ্ধ, বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে শক্তির প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিকেই চিহ্নিত করেছে। এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব কেবল টাকা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ভয় এবং ভূ-রাজনৈতিক হিসাব নিকাশের চিহ্নকেই প্রকাশ করছে।
এদিকে বৈশ্বিক অস্ত্র বিক্রির বাজারে তুরস্ক এক ঐতিহাসিক উত্থান ঘটিয়েছে। দেশটি সামরিক শিল্পে এখন বিশ্বব্যাপী পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। এই উত্থান কেবল তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেও নির্দেশ করে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটির বার্ষিক অস্ত্র বিক্রি ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মোট রাজস্ব পৌঁছেছে ১০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে।
তবে অস্ত্র বিক্রির এই বিশাল বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। তারা একসঙ্গে প্রায় ৩৩৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে, যা মোট বিক্রির বেশিরভাগ অংশ। ইউরোপে ২৬টি কোম্পানির মধ্যে ২৩টি কোম্পানিরই রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সামগ্রিক আঞ্চলিক বিক্রয় ১৩ শতাংশ বেড়ে ১৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়া এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। শ্রমিক ঘাটতি সত্ত্বেও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে তাদের সংস্থাগুলোর আয় ২৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে।
পাশাপাশি এবার মধ্যপ্রাচ্যও শীর্ষ অস্ত্র বিক্রেতাদের তালিকায় উঠে এসেছে। তাদের নয়টি কোম্পানি উৎপাদন করেছে ৩১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র। এদিকে গাজার যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চললেও, বর্বর ইসরাইল তাদের অস্ত্রের বিক্রি বাড়িয়েছে, যা যেন বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরেকটি দ্বৈত ছবি।
আরটিভি/এআর