images

আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:৫০ এএম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ আবারও ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড, যার তথ্য সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নিশ্চিত করে দেশটির সেনাবাহিনী।

রয়টার্সের তথ্যমতে, উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।

থাই সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী,  পূর্বাঞ্চলীয় উবন রাতচাথানি প্রদেশের দুটি এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। কম্বোডিয়ার দিক থেকে গুলিবর্ষণে একজন থাই সেনা নিহত, চারজন আহত হন। এর পরপরই থাই বাহিনী বিমান থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ,  কয়েক দিন ধরে “উসকানিমূলক” কার্যক্রম চালানোর পর সোমবার ভোরে দুটি স্থানে বিমান হামলা চালায় থাইল্যান্ড। তবে তারা দাবি করেছে, কম্বোডিয়া কোনো পাল্টা হামলা করেনি।

চলতি বছরের জুলাই মাসে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাঁচ দিনের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে ৪৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উদ্যোগে এবং ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়। পরে অক্টোবর মাসে কুয়ালালামপুরে বর্ধিত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু গত মাসে সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক থাই সেনা আহত হওয়ার পর থাইল্যান্ড ঘোষণা দেয় যে, তারা চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করবে।

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়ার ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে ১৯০৭ সালের ফরাসি উপনিবেশ আমলের মানচিত্র নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। প্রায়ই উত্তেজনা দফায় দফায় সংঘাতে রূপ নেয়।

২০১১ সালে দুই দেশের মধ্যে টানা এক সপ্তাহ ধরে আর্টিলারি গোলাবর্ষণে বড় ধরনের যুদ্ধ হয়েছিল।

আরও পড়ুন
pak-nd-afgan

পাকিস্তানের হামলায় ২৩ আফগান সেনা নিহত

সোমবারের হামলার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা চরমে, এবং পর্যবেক্ষকদের মতে—যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উভয় দেশই সামরিক সতর্কাবস্থা জোরদার করেছে, আর স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আরটিভি/এসকে