সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৮:৫১ এএম
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি এলাকায় ইহুদিদের হানুকা উৎসব চলাকালে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় অসামান্য সাহসিকতা দেখিয়ে দেশজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন এক পথচারী। তার নাম আহমেদ আল আহমেদ (৪৩)। নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে তিনি এক বন্দুকধারীর কাছ থেকে রাইফেল কেড়ে নিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পার্কিং এলাকায় আহমেদ দৌড়ে গিয়ে পেছন থেকে এক রাইফেলধারী বন্দুকধারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি হামলাকারীকে কাবু করে তার হাত থেকে অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেন এবং পরে সেটি মাটিতে ফেলে দেন। এরপর নিরস্ত্র হয়ে পড়া হামলাকারীটি হোঁচট খেয়ে পিছু হটে একটি সেতুর দিকে, যেখানে আরেকজন বন্দুকধারী অবস্থান করছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় একজন সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং আরেকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তৃতীয় কোনো বন্দুকধারী জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার সময় আহমেদ নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। অস্ট্রেলিয়ার একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার চাচাতো ভাই মুস্তাফা জানান, আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং রোববার রাতে তার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, সে এখন হাসপাতালে আছে। তার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। আমরা সবাই তার সুস্থতা কামনা করছি। সে নিঃসন্দেহে একজন নায়ক।
নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, আমি জীবনে এমন অবিশ্বাস্য দৃশ্য আর দেখিনি। ওই ব্যক্তি একজন প্রকৃত নায়ক। তার সাহসিকতার কারণেই আজ রাতে অনেক মানুষ বেঁচে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও সাহসী নাগরিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, কিছু অস্ট্রেলিয়ান বিপদের দিকে দৌড়ে গেছেন অন্যদের বাঁচাতে। তারা প্রকৃত নায়ক, এবং তাদের সাহসিকতা বহু প্রাণ রক্ষা করেছে।
এদিকে, এ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, হামলাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলাকারীরা বাবা ও ছেলে ছিলেন।
আরটিভি/এসকে