images

আন্তর্জাতিক / এশিয়া

চীনকে ঠেকাতে প্রতিরক্ষা খাতে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালছে জাপান

শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৫:৫৫ পিএম

চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার নিজেদের সামরিক শক্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। কেননা দেশটি আসন্ন অর্থবছরের জন্য ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে। মূলত তাইওয়ান ইস্যু এবং দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রুখতেই টোকিও এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। খবর আলজাজিরার। 

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, তাইওয়ান নিয়ে চীনের যেকোনো পদক্ষেপ জাপানের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এই আশঙ্কা থেকে দেশটি এখন নিজেদের সামরিক বাজেটকে জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার পথে হাঁটছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পরেই বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশ হিসেবে উঠে আসবে জাপান। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও টোকিওকে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন
sub-merin

উত্তর কোরিয়ার প্রথম পারমাণবিক সাবমেরিনের নতুন ছবি প্রকাশ

জাপানের এই বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ খরচ হবে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে। শত্রুর নাগালের বাইরে থেকে আঘাত হানতে সক্ষম ‘স্ট্যান্ড-অফ’ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে জাপানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ১ হাজার কিলোমিটার পাল্লার টাইপ-১২ সারফেস-টু-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত চীন সাগরে বেইজিংয়ের যুদ্ধজাহাজগুলোর গতিবিধি রুখে দেওয়ার জন্য মোতায়েন করা হবে।

মূলত জাপানের জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং সেনাবাহিনীতে সৈন্য সংখ্যা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার এখন মানববিহীন প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। আকাশ, জলপৃষ্ঠ ও জলতলের ড্রোন মোতায়েন করতে ৬৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে টোকিও’র। ২০২৮ সালের মধ্যে ‘শিল্ড’ নামে পরিচিত এই ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হবে। পেন্টাগনের চাপ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার তাগিদে জাপানের এই সামরিক পুনর্জাগরণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। 

আরটিভি/এআর