শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৮:৪৯ পিএম
মালয়েশিয়ার ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় মামলায়ও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট নাজিবের বিরুদ্ধে আনা অর্থপাচারের ২১টি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ৪টিসহ মোট ২৫টি অভিযোগের সবকটিতেই তাকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেন। ৫৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের এই রায়ের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও সংকটে পড়ল। খবর আলজাজিরার।
বিচারক কলিন লরেন্স সেকেরাহ রায়ে বলেন, নাজিব রাজাক তার প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদের প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। আসামি এই বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করলেও আদালতের কাছে উপস্থাপিত অকাট্য প্রমাণ সেই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে। প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে ১৫ থেকে ২০ বছর কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও নাজিবের চূড়ান্ত সাজার মেয়াদ কত হবে, তা পরবর্তীতে জানানো হবে।
১এমডিবি কেলেঙ্কারিকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম বড় আর্থিক জালিয়াতি। প্রসিকিউটরদের দাবি, নাজিব রাজাক রাষ্ট্রীয় এই তহবিল থেকে বিপুল অংকের সোনা এবং অর্থ অবৈধভাবে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে নিয়েছিলেন। যদিও নাজিব বরাবরই দাবি করে এসেছেন যে, পলাতক মালয়েশীয় ব্যবসায়ী জো লো তাকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং এই অর্থ সৌদি রাজপরিবারের দান ছিল। তবে আদালত সেই দাবিকে ধোপে টেকাতে দেননি।
২০২০ সালে ১এমডিবির অপর একটি মামলায় ৯০ লাখ ৯০ হাজার ডলার আত্মসাতের দায়ে নাজিবকে ১২ বছরের জেল দেওয়া হয়েছিল, যা পরে কমিয়ে ৬ বছর করা হয়। বর্তমানে তিনি কাজাং কারাগারে সেই সাজা ভোগ করছেন। নতুন এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার কারাদণ্ডের মেয়াদ কয়েক দশক পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে। এক দশকেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া এই কেলেঙ্কারির দায় স্বীকার করে নাজিব গত বছর জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেও আইনি খাঁড়া থেকে তা তাকে বাঁচাতে পারেনি।
আরটিভি/এআর