images

আন্তর্জাতিক / আফ্রিকা / যুক্তরাষ্ট্র

বড়দিনে ট্রাম্পের নির্দেশে নাইজেরিয়ায় ভয়ংকর হামলা

শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৩০ পিএম

আফ্রিকার জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আস্তানায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বড়দিনের রাতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোতো রাজ্যে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ‘মরণঘাতী’ হিসেবে বর্ণনা করে জঙ্গিদের ‘সন্ত্রাসী আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেছেন। নাইজেরিয়া সরকারের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযানে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, এই গোষ্ঠীটি মূলত নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা উগ্র ইসলামী সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই বাড়তে দেব না।  তবে নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগার জানিয়েছেন, এটি একটি নিয়মিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ছিল এবং এর সাথে কোনো বিশেষ ধর্মের সম্পর্ক নেই। নাইজেরিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই বেশ কিছুদিন ধরে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন
7

জুমার নামাজের সময় মসজিদে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৫

নাইজেরিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম জাবোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ একটি বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। অনেকে ভেবেছিলেন কোনো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফসলের মাঠে আগুনের কুণ্ডলী জ্বলছে এবং উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করছে।  স্থানীয়রা কেউ কেউ দাবি করেছেন যে সেখানে কোনো আইএস যোদ্ধা ছিল না, তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে ওই এলাকায় নতুন করে ‘লাকুরাওয়া’ নামক একটি আইএস সমর্থিত গোষ্ঠী তাদের শক্ত ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছিল।

এদিকে পেন্টাগন থেকে যখন এই হামলার ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছিল, তখন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মেরি ক্রিসমাস’ লিখে পোস্ট দেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অনেকে। 

তবে অনেক মানবাধিকার কর্মী মনে করছেন, এই হামলা নাইজেরিয়ার মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় আইনপ্রণেতা বাশার ইসাহ জাবো দাবি করেছেন, মার্কিন মিসাইলটি একটি হাসপাতালের মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে পড়েছে, যা বেসামরিক জানমালের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় সামরিক হস্তক্ষেপ। এর আগে গত সপ্তাহে সিরিয়াতেও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। 

আরটিভি/এআর