images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য / যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি ট্রাম্পের, কড়া বার্তা তেহরানের

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৫:০৫ পিএম

ইরানে চলমান নজিরবিহীন গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে এবার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকা হাত বাড়ালে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। 
খবর এএফপির। 

সংঘাতের সূত্রপাত হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান যদি গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেকোনো সময় ইরানে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন
Rtv

উত্তাল ইরান, বিক্ষোভে নিহত ৬

আলি লারিজানি শুক্রবার(২ জানুয়ারি) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ট্রাম্পের জানা উচিত যে ইরানের বিষয়ে নাক গলালে তা কেবল পুরো অঞ্চলকেই অস্থিতিশীল করবে না, বরং খোদ আমেরিকার স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি করবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সুর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে তারা বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের পথে হাঁটতেও দ্বিধা করবে না।

গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে এখন সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে লোরেস্তান, মাজানদারান ও খুজেস্তানসহ অন্তত এক ডজন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার এক দিনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে অন্তত সাতজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথ কাঁপাচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভকে পুঁজি করে যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী এক যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। 

আরটিভি/এআর