রোববার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৪:৫১ পিএম
ভেনেজুয়েলায় সফল সামরিক অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে। তবে এই অভিযানের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা ও দেশটির বিশাল জ্বালানি তেলের মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বের বৃহত্তম তেলের খনি থাকা সত্ত্বেও কেন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ওয়াশিংটনের এই প্রবল আগ্রহ?
মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইআইএ-এর তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত অনেক বড়, কিন্তু মার্কিন তেল মূলত ‘সুইট ক্রুড’ বা হালকা মানের, যা কেবল গ্যাসোলিন তৈরির জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার তেল অত্যন্ত ভারী ও ঘন। এই তেল পরিশোধনের মাধ্যমেই উৎকৃষ্টমানের ডিজেল, জেট ফুয়েল, অ্যাসফল্ট এবং ভারী শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। মূলত আমেরিকার ভারী শিল্প ও পরিবহণ ব্যবস্থার চাকা সচল রাখতে ভেনেজুয়েলার এই বিশেষ তেলের কোনো বিকল্প নেই। খবর সিএনএনের।
ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ হওয়ায় ভৌগোলিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত কাছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির তুলনায় ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনে খরচ অনেক কম পড়বে। এছাড়া ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণের একটি বড় পরিকল্পনা। বর্তমানে ভেনেজুয়েলা দৈনিক মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব সরবরাহের মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই খনিগুলোর আধুনিকায়ন করে উৎপাদন বাড়াতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ—উভয়ই ওয়াশিংটনের হাতের মুঠোয় চলে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে মানবাধিকার বা মাদক পাচারের অভিযোগ সামনে আনা হলেও এর অন্তরালে ছিল ‘কালো সোনা’ বা তেলের ভূ-রাজনীতি। ভেনেজুয়েলার এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ল্যাটিন আমেরিকায় তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য যেমন নিশ্চিত করল, তেমনি রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই অঞ্চল থেকে কার্যকরভাবে হঠিয়ে দিল।
আরটিভি/এআর