images

আন্তর্জাতিক / বিশেষ প্রতিবেদন

একের পর এক মুসলিম দেশগুলোই কেন ট্রাম্পের টার্গেটে?

রোববার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৫৪ পিএম

Failed to load the video

ক্ষমতায় ফেরার এক বছরের মধ্যেই নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ দাবি করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পৃথিবীর সাতটি দেশে পরিচালিত হয়েছে শত শত সামরিক অভিযান। আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি–এর তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি বা মিত্রদের মাধ্যমে অন্তত ৬২২ বার বোমা হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানের বড় অংশই পরিচালিত হয়েছে ছয়টি মুসলিমপ্রধান দেশে যা ট্রাম্পের যুদ্ধবিরোধী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সবশেষ গত শুক্রবার(২ জানুয়ারি) থেকে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প একে ‘নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করলেও আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলছে এই হামলা ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলাগামী নৌযানে হামলায় অন্তত ৯৫ জন নিহত হন যাকে মাদকবিরোধী অভিযান বলছে ওয়াশিংটন। 

আরও পড়ুন
6

ভেনেজুয়েলার পর কী এবার ইরানের ওপর নজর ট্রাম্পের?

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও ট্রাম্পের নির্দেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। গত ২২ জুন ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোতে বড় ধরনের হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এছাড়া ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত ধারাবাহিক বিমান ও নৌ হামলায় বন্দর ও সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি শতাধিক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরাক ও সিরিয়াতেও আইএসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার ৭০টি অবস্থানে প্রতিশোধমূলক হামলা এবং মার্চে ইরাকের আল-আনবার প্রদেশে আইএসের শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। ট্রাম্প এই সামরিক তৎপরতাকে ‘শান্তি রক্ষার জন্য শক্তি প্রদর্শন’ বলে অভিহিত করেছেন যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আফ্রিকা মহাদেশেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও হামলার হার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে সোমালিয়ায় ১১১ বার বিমান হামলা চালানো হয়েছে যেখানে শিশুসহ অসংখ্য বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর নাইজেরিয়াতে আইএস সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সরাসরি হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী যা ট্রাম্পের বৈশ্বিক সামরিক নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরটিভি/এআর