বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৯:০২ পিএম
Failed to load the video
বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে ভেনেজুয়েলা এখন এক চরম অস্থিরতার নাম। মার্কিন বিশেষ অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে এরদোয়ান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কোনো দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত করা তুরস্ক কোনোভাবেই সমর্থন করে না। সোমবার(৭ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেন।
সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এরদোয়ান এই ঘটনাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ শুধু আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করা নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে নতুন কোনো বড় জটিলতার জন্ম দিতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি এবং দেশটিকে কোনোভাবেই অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
মাদুরোকে আটকের পর কয়েক দিন এরদোয়ান চুপ থাকায় বিরোধী দলগুলো সমালোচনা করেছিল যে, তিনি হয়তো ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে চান না। তবে সেই নীরবতা ভেঙে এরদোয়ান জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে তুরস্কের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের সময় মাদুরো যেভাবে এরদোয়ানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আঙ্কারার নীতিনির্ধারকরা আজও সেই বন্ধুত্বের কথা ভোলেননি।
বক্তব্যের শেষ দিকে এরদোয়ান মাদুরো ও ভেনেজুয়েলার জনগণকে তুরস্কের ‘প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তুরস্কের লক্ষ্য একটাই—ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের জন্য যা সঠিক, সেই পথে থাকা। সরাসরি নাম না নিলেও মাদুরোকে জবরদস্তি তুলে নেওয়ার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ বলে আখ্যা দেন।
আরটিভি/এআর