শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৫ পিএম
ভারতের মধ্য প্রদেশে গরুর মল-মূত্র দিয়ে ক্যানসারের ওষুধ তৈরির এক সরকারি গবেষণা প্রকল্পে নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই প্রকল্পে কোটি কোটি রুপি ব্যয় হলেও গবেষণার কোনো বাস্তব ফলাফল মেলেনি। উল্টো প্রকল্পের অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন ও কেনাকাটার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ২০১১ সালে জবলপুরের নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে বইছে বিতর্কের ঝড়। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কেবল গোবর, গোমূত্র ও গবেষণার কাঁচামাল কেনাতেই খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ রুপি। অথচ তদন্তকারীদের দাবি, বাজারদর অনুযায়ী এই খরচ ২০ লাখ রুপির বেশি হওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ শুধু গোমূত্র ও গোবর কেনাতেই কয়েক গুণ বেশি খরচ দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গবেষণার অজুহাতে ২৩ থেকে ২৪ বার বিমানে ভ্রমণের খরচও মেটানো হয়েছে সরকারি এই তহবিল থেকে।
অতিরিক্ত কালেক্টরের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, বাজেটে অনুমতি না থাকলেও প্রকল্পের অর্থ দিয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রুপি মূল্যের গাড়ি কেনা হয়েছে। এছাড়া আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির পেছনে ব্যয় করা হয়েছে আরও ১৫ লাখ রুপি। অদ্ভুত বিষয় হলো, নথিপত্রে যে গাড়িগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তবে সেগুলোর কোনো হদিস পাননি তদন্তকারীরা। কৃষকদের প্রশিক্ষণের নামে ব্যয় করা হলেও কাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রেজিস্ট্রার ড. এস এস তোমর দাবি করেছেন, সব কেনাকাটা সরকারি নিয়ম মেনেই করা হয়েছে এবং নিয়মিত অডিটও হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এই তদন্ত প্রতিবেদনটি ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে গবেষণার নামে এমন হরিলুট এখন ভারতের জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আরটিভি/এআর