মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৩৮ পিএম
ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা দেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে। তেহরানের দাবি বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সেল সদস্যরা’ এসব অস্ত্র গোপনে সাধারণ বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল যা দিয়ে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে এই অভিযানের পর ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম সংবেদনশীল অবস্থায় পৌঁছেছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন তাদের কাছে এমন কিছু অডিও রেকর্ড রয়েছে যা প্রমাণ করে যে বিদেশ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিদেশি এজেন্ট পাঠিয়ে ইরানে গৃহযুদ্ধ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তেহরান স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে।
অন্যদিকে বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার চূড়ান্ত কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী চলমান গণআন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক বিক্ষোভকারীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তেহরান। এটি কার্যকর হলে বর্তমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে প্রথম কোনো বিক্ষোভকারীর প্রাণদণ্ড হবে। এই ঘটনার ফলে আন্দোলন আরও সহিংস হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দেশজুড়ে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং কড়াকড়ির কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে গোয়েন্দা বাহিনীর এই অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি ইরানের চলমান সংকটকে এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
আরটিভি/এআর