বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:০৭ পিএম
ভারতের জন্য যে সামরিক সুযোগ একসময় হাতছাড়া হয়েছিল, তা এখন পাকিস্তানের জন্য বড়ো সামরিক সুবিধায় পরিণত হয়েছে। চীনের সহযোগিতায় তৈরি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানটি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এই যুদ্ধবিমানটি এখন একের পর এক দেশ কিনতে আগ্রহী, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ জানায়, ৪.৫ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান নিজ দেশে উৎপাদন করছে এবং নিজের বিমানবাহিনীতেও ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন কম দামে কার্যকর যুদ্ধবিমান খুঁজতে গিয়ে জেএফ–১৭-এ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এমনকি সৌদি আরব ঋণের বিনিময়ে পাকিস্তান থেকে এই বিমান কেনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
চীনের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচি ১৯৭০-এর দশকে শুরু হয় এবং ১৯৭৯ সালে প্রথম জে–৮ যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে। পরবর্তীতে রাশিয়ার সুখোই–২৭ সংগ্রহের মাধ্যমে আধুনিকায়ন শুরু করে চীন, যা পরে দেশীয় জে–১১ ফাইটার জেট প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। রাশিয়ার সুখোই–৩৫, ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক এক আসনবিশিষ্ট দ্বৈত ইঞ্জিনের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২,৪০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে সক্ষম।

২০১৫ সালে চীন ২৪টি সুখোই–৩৫ যুদ্ধবিমান কিনেছিল ২০০ কোটি ডলারে, যা ভারতের এই ধরনের বিমান কেনার সুযোগকে বন্ধ করে দেয়। এরপর এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাকিস্তানের জন্য জেএফ–১৭ উন্নয়ন করা হয় এবং উৎপাদন অধিকার দেওয়া হয়।
বর্তমানে পাকিস্তান জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান আরব দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে বাজারজাত করছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। যদিও রাশিয়া প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের কারণে মস্কো এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, ভারত এখনও নিজস্ব তেজস যুদ্ধবিমান প্রকল্পে আটকে রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। উন্নত সংস্করণ তেজস এমকে–১এ তৈরির পরও সরবরাহ শুরু হয়নি এবং ভবিষ্যতের এমকে–২ ও এমকেএ প্রকল্পের কাজও সময়সাপেক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে, জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে একটি নতুন গেমচেঞ্জার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
আরটিভি/এসকে