রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৪:৫৫ পিএম
আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার বিরোধ এখন প্রকাশ্য অর্থনৈতিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্কসহ আটটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই কঠোর পদক্ষেপের পরপরই ময়দানে নেমেছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ ইউরোপীয় নেতাদের বিদ্রূপ করে বলেছেন, তাদের উচিত হবে না ‘নিজেদের বাবাকে’ (ডোনাল্ড ট্রাম্প) উসকানি দেওয়া। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
শনিবার(১৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে দিমিত্রিভ ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতিকে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানোর সরাসরি সাজা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে ট্রাম্পকে ‘ড্যাডি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন যা টেনে দিমিত্রিভ কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তার মতে ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পের সাথে একটি বিপজ্জনক খেলায় মেতেছে যার গাণিতিক হিসাব অত্যন্ত চড়া। তিনি দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো প্রতিজন সেনার বিপরীতে ট্রাম্প প্রায় ১ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ করছেন যা ইউরোপীয় অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের পণ্যের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হবে। ট্রাম্পের দাবি গ্রিনল্যান্ডে এই দেশগুলোর ‘বিপজ্জনক সামরিক উপস্থিতি’ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো ডেনমার্কের কাছ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি পুরোপুরি কিনে নেওয়া।
বিশ্লেষকরা রাশিয়ার এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যকার ফাটল আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে মার্কিন স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প এই অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার সংকল্প করেছেন।
আরটিভি/এআর