বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ০১:৪৫ পিএম
ইন্দোনেশিয়ার মুনা দ্বীপে চুনাপাথরের গুহায় বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এসব গুহাচিত্রের বয়স প্রায় ৬৭ হাজার ৮০০ বছর। যা এখন পর্যন্ত পরিচিত যেকোনো চিত্রকলার চেয়ে পুরোনো।
ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের যৌথ গবেষণায় জানা গেছে, গুহার দেয়ালে হাত রেখে তার ওপর রঙ ছিটিয়ে এই ছাপগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে দেয়ালে স্পষ্টভাবে হাতের অবয়ব ফুটে ওঠে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার (বিআরআইএন) প্রত্নতত্ত্ববিদ আধি আগুস অক্টাভিয়ানা ২০১৫ সাল থেকে সুলাওয়েসি প্রদেশের মুনা দ্বীপ অঞ্চলে গুহাচিত্র নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছেন।
সাম্প্রতিক গবেষণায় তিনি গুহার ভেতরে তুলনামূলক নতুন চিত্রের নিচে চাপা পড়ে থাকা এসব প্রাচীন হাতের ছাপের সন্ধান পান। ওই গুহায় ঘোড়ায় চড়া মানুষের ছবি ও একটি মুরগির চিত্রও রয়েছে।
গবেষকরা জানান, কিছু হাতের ছাপের আঙুলের ডগা ইচ্ছাকৃতভাবে সূচালো করে তোলা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, শিল্পীরা হয়ত মানুষের হাতকে অন্য কোনো প্রতীকী রূপ (সম্ভবত কোনো প্রাণীর থাবা) হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
গবেষণার সহনেতৃত্বদানকারী অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ম্যাক্সিম ওবার্ট বলেন, এই ধরনের হাতের ছাপ কেবল সুলাওয়েসি অঞ্চলেই দেখা যায় এবং এর পেছনে গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য থাকতে পারে।
গুহাচিত্রের বয়স নির্ধারণে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত নির্ভুল ইউরেনিয়াম-থোরিয়াম বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। গুহার দেয়ালে চিত্রের ওপর জমে ওঠা খনিজ স্তর পরীক্ষা করে এর ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, মুনা দ্বীপের গুহাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের শিল্পচর্চার কেন্দ্র ছিল। কিছু প্রাচীন চিত্রের ওপর প্রায় ৩৫ হাজার বছর পরেও নতুন চিত্র আঁকা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার সুলাওয়েসি হয়ে প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর অভিবাসনের তত্ত্বকে আরও জোরালো করে। আধি আগুস অক্টাভিয়ানা বলেন, এই গুহাচিত্র প্রমাণ করে, আমাদের পূর্বপুরুষরা শুধু দক্ষ নাবিকই ছিলেন না, তারা ছিলেন সৃজনশীল শিল্পীও।
সূত্র: আল-জাজিরা
আরটিভি/এমএইচজে/এসআর