images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য

এবার বিশাল খনিজ ভাণ্ডার পাওয়ার দাবি সৌদি আরবের

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৩৮ পিএম

তেলের খনি থেকে এবার বিরল খনিজ সম্পদের দিকে নজর ফিরিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির মরুভূমির গভীরে প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের এক বিশাল খনিজ ভাণ্ডার থাকার দাবি জানিয়েছে রিয়াদ। সোনা, তামা ও লিথিয়ামের পাশাপাশি সেখানে পাওয়া গেছে এমন সব বিরল উপাদান, যা আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চিপ তৈরির জন্য অপরিহার্য। এই আবিষ্কার কেবল তেলের ওপর নির্ভরশীল আরবের অর্থনীতিকেই বদলে দেবে না, বরং বৈশ্বিক খনিজ বাজারে চীনের একক আধিপত্যের ভিত্তিও নাড়িয়ে দিতে পারে। খবর সিএনএনের।

আরও পড়ুন
1

প্রবাসীদের বড় দুঃসংবাদ দিল সৌদি আরব

মরুর বুক থেকে এই সম্পদ উত্তোলনে সৌদি আরব আগামী এক দশকে ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে বিশ্বের বিরল খনিজ উত্তোলনের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে চীন, যা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। সৌদি আরবের এই নতুন ভাণ্ডার সেই উদ্বেগের বিকল্প সমাধান হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে পেন্টাগনের সমর্থনপুষ্ট মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে আরবের মাটিতে নতুন শোধনাগার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা চীনকে পাশ কাটিয়ে নতুন এক বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তাদের ‘সস্তা জ্বালানি’, যা খনিজ পরিশোধনের প্রক্রিয়াকে অন্যদের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে। তবে খনি থেকে সম্পদ আহরণ করা সহজ কোনো কাজ নয়; একটি পূর্ণাঙ্গ কারখানা গড়তে ৩ থেকে শুরু করে ২৯ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। পরিবেশগত ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবুও আরবের এই পদক্ষেপটি কেবল তাৎক্ষণিক লাভের জন্য নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান।

আরটিভি/এআর