রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:১৪ পিএম
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় কণ্ঠস্বর এবং বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি আর নেই। রোববার(২৫ জানুয়ারি) ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে। ১৯৩৫ সালে কলকাতার টালিগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই মহীরুহ সাংবাদিক দীর্ঘ ২০ বছর বিবিসির দিল্লি ব্যুরোপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালে যখন এই জনপদে বর্বর গণহত্যা চলছিল, তখন তার পাঠানো বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনগুলোই বিশ্ববিবেকের কাছে বাংলাদেশের প্রকৃত আর্তনাদ পৌঁছে দিয়েছিল। তার প্রয়াণে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকতা ও ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল।
১৯৭১ সালে মার্ক টালি ছিলেন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা। যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি সীমান্তবর্তী শরণার্থীশিবির এবং বাংলার গ্রামগঞ্জে ঘুরে বিপন্ন মানুষের হাহাকার আর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা প্রচার করেছিলেন। তার সেই অকুতোভয় সাংবাদিকতা বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে এক অনন্য সাধারণ ভূমিকা রাখে। এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’য় ভূষিত করে। এছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ এবং নিজ দেশ যুক্তরাজ্য তাকে সম্মানজনক ‘নাইটহুড’ খেতাবে ভূষিত করে।
ব্যক্তিজীবনে ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্বের ছাত্র মার্ক টালি শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও পরবর্তীতে সাংবাদিকতাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন। ১৯৯৪ সালে বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি ভারত ছাড়েননি; নয়াদিল্লিকেই আপন নিবাস করে আমৃত্যু ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চায় মগ্ন ছিলেন। তার রচিত ‘নো ফুল স্টপস ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘অমৃতসর: মিসেস গান্ধীস লাস্ট ব্যাটল’-এর মতো বইগুলো উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই রুদ্ধশ্বাস দিনগুলোতে বাঙালির ‘আশার প্রদীপ’ হয়ে আসা মার্ক টালি চিরকাল বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে পরম শ্রদ্ধায় বেঁচে থাকবেন।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/এআর