images

আন্তর্জাতিক / এশিয়া

বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্রের সন্ধান

রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৫৪ পিএম

মানব সভ্যতার ইতিহাসে শিল্প ও সৃজনশীলতার জন্ম কোথায়—এই ধ্রুপদী বিতর্কে নতুন এক ঝড়ো হাওয়া বইয়ে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি প্রদেশের মুনা দ্বীপের এক আবিষ্কার। দ্বীপটির ‘লিয়াং মেতানদুনো’ নামক একটি চুনাপাথরের গুহায় সন্ধান মিলেছে মানুষের হাতের এমন এক প্রাচীন ছাপচিত্রের (স্টেনসিল), যার বয়স অন্তত ৬৭ হাজার ৮০০ বছর। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি সঠিক হলে এটিই হবে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্র। এই আবিষ্কার সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে সেই পুরনো ধারণাকে, যেখানে মনে করা হতো মানব সৃজনশীলতার আদি কেন্দ্র ছিল ইউরোপ। খবর রয়টার্সের। 

আরও পড়ুন
7

চোখের সামনে নাক, তবুও দেখি না কেন?

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ম্যাক্সিম অবার্টের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় আধুনিক ‘ইউরেনিয়াম সিরিজ’ পদ্ধতি ব্যবহার করে চিত্রটির বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষকেরা জানান, সময়ের আবর্তে লালচে রঙের এই হাতের ছাপগুলো ফিকে হয়ে গেলেও এর শৈল্পিক কারুকার্য ছিল বিস্ময়কর। বিশেষ করে হাতের আঙুলগুলোকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যাতে সেগুলো প্রাণীর নখের মতো ধারালো দেখায়। এই প্রতীকী উপস্থাপনা প্রমাণ করে যে সেই আদিমকালেই মানুষের চিন্তাশক্তি ও সাংস্কৃতিক চেতনা কতটা প্রখর ছিল।

আগে ধারণা করা হতো স্পেনের মালট্রাভিয়েসো গুহার ৬৪ হাজার বছর পুরনো হাতের ছাপটিই বিশ্বের প্রাচীনতম। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার এই নতুন আবিষ্কার ইউরোপের সেই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। গবেষক অ্যাডাম ব্রামের মতে, আমরা দীর্ঘকাল ভুল জায়গায় শিল্পের আদি উৎস খুঁজছিলাম। এখন এটা স্পষ্ট যে ইউরোপের অনেক আগেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধুনিক মানুষের (হোমো স্যাপিয়েন্স) সৃজনশীল আচরণের বিকাশ ঘটেছিল। এই আবিষ্কার কেবল ইতিহাসের পাতাই বদলাচ্ছে না, বরং আদি মানুষের অভিপ্রয়াণ ও বিবর্তনের এক নতুন ও রোমাঞ্চকর পথরেখা তৈরি করছে।

আরটিভি/এআর