মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:১৩ পিএম
ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের জেরে চলতি সপ্তাহেই দেশটিতে বিমান হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। যদিও হামলার সময় নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে যেকোনো মুহূর্তে এই অভিযান শুরু হতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে বর্তমানে ইরানে হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে ‘উত্তপ্ত’ আলোচনা চলছে। গত মাসের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। বিক্ষোভকারীদের হত্যার অজুহাতে দেশটি তখন থেকেই ইরানকে সামরিক কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল। ইরান সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর অবলম্বন করলেও বিশ্লেষকদের মতে, সেটি ছিল আসলে মূল হামলার পরিকল্পনা আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।
তবে ইরানের ওপর সরাসরি হামলার বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান এই মুহূর্তে ইরানে সরাসরি হামলার তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করেছে। তারা আশঙ্কা করছে যে, ইরানে হামলা হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক ভয়াবহ পাল্টা যুদ্ধের সৃষ্টি হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে এখনো সরে আসেনি বলেই মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধকালীন সতর্কতা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সাথে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় বিভিন্ন এয়ার কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিজেদের বিমান চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এয়ার ফ্রান্স, লুফথানসা এবং ডাচ এয়ারলাইন্স কেএলএম-এর মতো নামী আন্তর্জাতিক সংস্থ। তারা এই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা রুট পরিবর্তন করেছে। ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ইসরায়েল, দুবাই এবং রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলো এখন বৈশ্বিক আকাশপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার হুমকিতে পড়েছে। এছাড়া এভিয়েশন গ্রুপগুলো ওই এলাকায় মিসাইল ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বেসামরিক বিমান চলাচলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
আরটিভি/এআর